
পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার প্রতিশোধে আবেগ আর কৌশলের এক অনন্য সংমিশ্রণ। পহেলগাঁও জঙ্গি হামলায় যখন নিরপরাধ হিন্দু তীর্থযাত্রীরা প্রাণ হারান, তখন গোটা দেশ স্তব্ধ হয়ে যায়। কান্নায় ভেঙে পড়েন বহু পরিবার, বিশেষ করে সেইসব স্ত্রীরা যারা স্বামী হারিয়েছেন অপ্রত্যাশিত এই জঙ্গি আক্রমণে। তাদের সেই নিঃস্ব চাহনি যেন প্রতিটি দেশবাসীর হৃদয়ে গেঁথে যায়। ঠিক সেই মুহূর্তেই ভারতীয় সেনা এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলি শুরু করে এক নির্ভুল ও প্রতিশোধমুখী অভিযান – যার নাম দেওয়া হয় “অপারেশন সিঁদুর”।নামেই যেন প্রতিশোধের বার্তা “সিঁদুর” – এই একটি শব্দেই যেন সমস্ত আবেগ, ব্যথা ও প্রতিবাদের মিশেল।
তার ঠিক তিনমাস পর শ্রাবণ মাসে “অপারেশন মহাদেব”। শ্রাবণ মাস শিবের উপাসনার মাস।এই শ্রাবন মাসেই পহেলগাঁও হামলার মাস্টারমাইন্ডকে খতম করা হল । এই অভিযানের নাম রাখা হলো , “অপারেশন মহাদেব”। এই নামের পেছনে কেবল ধর্মীয় আবেগ নয়, আছে একটি কৌশলগত বার্তাও —মহাদেব একাধারে ধ্বংস আর সৃষ্টির প্রতীক । এই শ্রাবণেই ধ্বংস হল অসুর ,রক্ষা পেলো মানুষ ।
‘মহাদেব’ নামে এই অপারেশন যেন একাধিক স্তরে মানুষের হৃদয়ে স্থান করেছে। শুধু সামরিক দক্ষতাই নয়, এই অপারেশন দেখিয়েছে কীভাবে ভারত তার প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা এবং মর্যাদা আর সংস্কৃতির প্রতীককেই সম্মানের সঙ্গে প্রতিশোধে পরিণত করতে জানে।মানুষের শিকড়ে রয়েছে তার সংস্কৃতি ।তাকেই নামের মাধ্যমে ধারণ করে যেন মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গেলো সেনাবাহিনীর এইসব অপারেশন ।
পহেলগাঁও হামলার মতো নিষ্ঠুর ঘটনাকে ঘিরে জন্ম নেওয়া এই দুই অপারেশন—সিঁদুর ও মহাদেব—শুধু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দক্ষতাই নয়, জনমানসের সঙ্গে রাষ্ট্রের আবেগগত সংযোগেরও এক অনন্য নিদর্শন হয়ে উঠেছে। ভবিষ্যতের ইতিহাসে এই দুটি নাম রয়ে যাবে কেবল অপারেশনের তালিকায় নয়, বরং আবেগ আর আত্মত্যাগের এক বাস্তব প্রতিচ্ছবির প্রতীক হিসেবে।





