অবশেষে মাথানত করল পাকিস্তান, ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে হাফিস সৈয়দ ও মাসুদ আজহারকে!

সিন্ধু চাপে পড়ে ভারতের কাছে মাথানত করল পাকিস্তান। ভারতের হাতে হাফিজ সইদ, মাসুদ আজহারকে তুলে দিতে রাজি হয়েছে ‘আশ্রয়দাতা’ পাকিস্তান। এমনটাই জানিয়েছেন পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারিই। এরপরেই বিশ্বদরবারে শুরু হয়েছে তীব্র শোরগোল।
সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়া, জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয় দেওয়া-পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ। যদিও বরাবরই সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে পাকিস্তান। তবে এবার সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পাক বিদেশমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি জানালেন, লস্কর প্রধান হাফিজ সইদ ও জইশ প্রধান মাসুদ আজাহারকে ভারতের হাতে তুলে দিতে রাজি তারা। যদিও সেক্ষেত্রে ভারতকে সহযোগিতা করতে হবে। ভুট্টো বলেন, “পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনায়, বিশেষ করে সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে আলোচনায় বসতে আমরা প্রস্তুত। সুসম্পর্কের নিরিখে লস্কর ই তইবার প্রধান হাফিজ সইদ ও জইশ ই মহম্মদ প্রধান মাসুদ আজাহারকে আমরা প্রত্যর্পণ করতে রাজি আছি। কারন ভারত এদের বিরুদ্ধে সীমান্তবর্তী সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলেছে। তবে সেক্ষেত্রে তাদের দোষী প্রমাণ করতে কিছু মৌলিক পন্থা অবলম্বনে অস্বীকার করেছে ভারত। তাই আমরা জানাতে চাই ভারতের প্রতিনিধি পাকিস্তানের আদালতে এসে উপযুক্ত প্রমাণ দিক।”
বিলাওয়াল আরও বলেন, “যদি ভারত এই প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে প্রস্তুত থাকে তাহলে তারা জানাক। সেক্ষেত্রে আমি নিশ্চিত যে পাকিস্তানের মাটিতে অপরাধী এই ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণে আর কোনও বাধা থাকবে না। সন্ত্রাস পাকিস্তান বা ভারত কারও স্বার্থেই কাজ করে না। হাফিজ সইদ এখানে বহাল তবিয়তে রয়েছে একথাটা ঠিক নয়। আর মাসুদ আজহারের কথা যদি বলেন আমরা ওকে গ্রেপ্তার করতে পারিনি কিংবা চিহ্নিত করতে পারিনি। ওর আফগান জেহাদিদের সঙ্গে অতীত সম্পর্ক মাথায় রেখে বলতে পারি, আমাদের বিশ্বাস ও আফগানিস্তানেই রয়েছে। যদি ভারত সরকার আমাদের তথ্য দিতে পারে যে ও পাকিস্তানের মাটিতেই রয়েছে, সেক্ষেত্রে আমরা ওকে খুশি মনে গ্রেপ্তার করতে পারি। কিন্তু ঘটনা হল, ভারত সরকার তেমন কোনও তথ্য দিচ্ছে না।”
প্রসঙ্গত, পাকিস্তানের ন্যাশনাল কাউন্টার টেররিজম অথারিটির তথ্য অনুযায়ী, সেখানে লস্কর-ই-তৈবা ও জইশ-ই-মহম্মদ, দুই জঙ্গিগোষ্ঠীকেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মুম্বই হামলার অন্যতম চক্রী হাফিজ সইদ পাকিস্তানের জেলে রয়েছেন বলে দাবি। এই বিষয়ে বিলাওয়াল জানান দুজনের বিরুদ্ধেই সন্ত্রাসবাদে আর্থিক মদত দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে। দিল্লির থেকে সহযোগিতা না পাওয়ায়, তাদের সীমান্তের ওপারে সন্ত্রাসবাদের জন্য শাস্তি দেওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে।





