আপনি কি অ্যালোপেসিয়ায় আক্রান্ত?

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সবার চুলই কমে যায়। দিনে ৫০ থেকে ১০০টি চুল পড়া চিকিৎসকেরা স্বাভাবিক বলে মনে করেন। কিন্তু যখন একেবারে গোছা গোছা চুল উঠে যায়, স্ক্যাল্পের নির্দিষ্ট জায়গা ফাঁকা হয়ে যায়—তখনই সঙ্কেত পাওয়া যায় অ্যালোপেসিয়া এরিয়াটার। এটি নিছক টাক পড়া নয়। এটি এমন এক অটোইমিউন অসুখ, যেখানে শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা উল্টে গিয়ে নিজেই হেয়ার ফলিকলকে আক্রমণ করে। ফলে চুল গজানো বন্ধ হয়ে যায়।
অটোইমিউন ডিসঅর্ডার মানে এমন একটি সমস্যা, যেখানে শরীরের ইমিউন সিস্টেম বাইরের শত্রুর বদলে শরীরেরই কোনও অঙ্গকে আক্রমণ করে। অ্যালোপেসিয়া এরিয়াটার ক্ষেত্রেও তাই হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায়, হেয়ার ফলিকল বা চুল গজানোর ক্ষুদ্র কূপ ইমিউন কোষের আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে নতুন চুল আর জন্মাতে পারে না। শুধু মাথা নয়, ভ্রু, দাড়ি, হাত–পা—যেকোনও জায়গা থেকে হঠাৎ করেই চুল উঠে যেতে পারে।
অ্যালোপেসিয়া এরিয়াটার উপসর্গ ধরা পড়ে সহজেই। যেমন মাথায় গোছা গোছা চুল পড়ে ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়। শুধু মাথা নয়, শরীরের অন্য যেকোনও অংশ থেকেও হঠাৎ চুল পড়ে যায়। নখ ভঙ্গুর হয়ে যায়, ছোট ছোট গর্ত দেখা দেয়। হঠাৎ থাইরয়েডের মতো রোগ ধরা পড়ে। কিছু ক্ষেত্রে আর্থ্রাইটিস বা ইনফ্ল্যামেটরি বাওয়েল ডিজিজও (IBD) দেখা দেয়। অর্থাৎ চুল পড়া এখানে মূল সমস্যা নয়, বরং একটি গুরুতর রোগের লক্ষণ।
অ্যালোপেসিয়া এরিয়াটার সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। তবে চিকিৎসকদের মতে— জেনেটিক প্রবণতা থাকলে ঝুঁকি বেশি। মানসিক চাপ ও উদ্বেগ বড় ট্রিগার। পুষ্টির অভাব, বিশেষ করে ভিটামিন ডি, আয়রন বা জিঙ্কের ঘাটতি। দূষণ ও পরিবেশগত কারণ। অন্য অটোইমিউন রোগ থাকলে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। অর্থাৎ, এই রোগ শরীরের ভেতরের জটিল প্রতিক্রিয়ার ফল, যা হঠাৎ করেই সামনে আসে।
দুঃখের বিষয়, এই রোগ পুরোপুরি প্রতিরোধের উপায় নেই। তবে চিকিৎসা আছে — কর্টিকোস্টেরয়েড ইনজেকশন বা ক্রিম ব্যবহার করা হয়। টপিকাল ইমিউনোথেরাপি চুল গজাতে সাহায্য করে। নতুন চিকিৎসায় জ্যানাস কিনেজ (JAK) ইনহিবিটার ওষুধ আশার আলো দেখাচ্ছে। রোগীদের প্রোবায়োটিক্স খাওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়। তবে একটি বিষয় মনে রাখা দরকার—যদি রোগ শুরু হওয়ার ১২ সপ্তাহের মধ্যে নতুন চুল না ওঠে, ভবিষ্যতে চুল ফেরার সম্ভাবনা কমে যায়।





