আলাস্কায় মুখোমুখি ট্রাম্প-পুতিন, এখনও অধরা যু*দ্ধবিরতি!

শনিবার আলাস্কার ঐতিহাসিক বৈঠককে ঘিরে কূটনৈতিক দুনিয়ায় ছিল উত্তেজনা। তিন ঘণ্টার লম্বা আলোচনায় দুই রাষ্ট্রপ্রধান অনেক বিষয়েই মতৈক্যে পৌঁছেছেন। তবে যুদ্ধবিরতি নিয়ে প্রত্যাশিত সমাধান আসেনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন “আজকের আলোচনা অনায়াসেই দশে দশ পাওয়ার যোগ্য।” তাঁর মতে, কিছুটা অগ্রগতি অবশ্যই হয়েছে। কিন্তু যুদ্ধবিরতির জন্য এখনও অনেক পথ বাকি। অর্থাৎ, এই বৈঠক যুদ্ধ থামানোর প্রথম ধাপ হতে পারে, কিন্তু শেষ ধাপ নয়।
বৈঠকের পর সাংবাদিক বৈঠকে ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় জানান ঐকমত্য ছাড়া কোনও স্থায়ী শান্তি সম্ভব নয়। তাঁর বক্তব্য, “আমরা কিছু বিষয়ে একমত হলেও, সবচেয়ে বড় প্রশ্নের সমাধান আসেনি। তবে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।” ট্রাম্পের কথায় বোঝা যাচ্ছে, যুদ্ধবিরতির জন্য কেবল আমেরিকা বা রাশিয়ার সদিচ্ছাই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন ইউক্রেনকেও নিয়ে সমঝোতা তৈরি করা। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের বক্তব্য একদিকে আশা জাগালেও অন্যদিকে যুদ্ধবিরতির পথ যে এখনও দীর্ঘ, তা-ও পরিষ্কার হয়ে গেল।
তবে আলোচনার মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে বৈঠকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির অনুপস্থিতি নিয়ে। আশ্চর্যজনকভাবে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। অথচ পুরো আলোচনাই ছিল যুদ্ধবিরতি নিয়ে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এরই মধ্যে প্রশ্ন তুলেছে যখন যুদ্ধ থামানোর পরিকল্পনা হচ্ছে, তখন কেন এক পক্ষকে অন্ধকারে রাখা হল? অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, যুদ্ধবিরতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইউক্রেনকে বাদ দিয়ে যে কোনও সিদ্ধান্ত দীর্ঘস্থায়ী হবে না।
এই সমালোচনার জবাবেই ট্রাম্প জানান ইউক্রেন প্রেসিডেন্টের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর কথায়, এখন গোটা প্রক্রিয়ার দায়িত্ব জেলেনস্কির উপর নির্ভর করছে। ভবিষ্যতে পুতিন ও জেলেনস্কির মুখোমুখি বৈঠকের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। চাইলে তিনি নিজেও সেখানে থাকতে রাজি। পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করে দেন শুধু ইউক্রেনের সদিচ্ছা থাকলেই চলবে না, ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলোকেও আলোচনার টেবিলে বসতে হবে। তবেই আসতে পারে যুদ্ধবিরতি।
এছাড়া আলোচনায় উঠে এসেছে অর্থনীতি ও বাণিজ্যের প্রশ্নও। ইউক্রেন যুদ্ধের পরে আমেরিকা একের পর এক নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছে রাশিয়ার উপর। কিন্তু একই সময়ে ভারতসহ একাধিক দেশ রাশিয়া থেকে সস্তায় তেল আমদানি করছে। ট্রাম্প এই কারণে ভারতের উপর দুই দফায় ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছিলেন। আরও শুল্ক চাপানোর হুমকিও দেন তিনি। তবে বৈঠকের পর তাঁর সুর কিছুটা নরম হয়েছে। তিনি জানান আপাতত নতুন শুল্ক চাপানো হবে না, তবে ২-৩ সপ্তাহ পর বিষয়টি আবার খতিয়ে দেখা হবে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।
পুতিনও বৈঠকে কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানান ২০২২ সালে ইউক্রেন আক্রমণের আগে তিনি আমেরিকার তৎকালীন প্রশাসনকে সতর্ক করেছিলেন। তাঁর দাবি সে সময় যদি ট্রাম্প ক্ষমতায় থাকতেন, যুদ্ধ শুরু-ই হত না। বাইডেন প্রশাসনের ভুলের কারণেই ইউরোপকে আজ যুদ্ধের মূল্য দিতে হচ্ছে। পুতিন আরও বলেন ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এখন ব্যবসায়িক ও বিশ্বাসযোগ্য। আর এই বিশ্বাসই ভবিষ্যতে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে সহায়ক হতে পারে।





