Blogদেশ

কিশ্তওয়াড়ে ৬০ জনকে একাই বাঁচিয়ে ‘হিরো’ অ্যাম্বুল্যান্স চালক রশিদ

টানা তিন দিনের অক্লান্ত পরিশ্রম। কখনও পুণ্যার্থীদের উদ্ধার করে অ্যাম্বুল্যান্সে চাপিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে পাঠানো। একাই ৬০ জন পুণ্যার্থীকে বাঁচানো সেই আরিফ রশিদই এখন চশোতীর আসল ‘হিরো’!গত ১৪ অগস্ট মচৈল মাতা মন্দির দর্শনের জন্য কয়েকশো পুণ্যার্থী হাজির হয়েছিলেন চশোতীতে। বিকট শব্দে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নেমে আসে কয়েক ফুট উঁচু পাথর আর কাদার স্রোত। ঘড়ির কাঁটায় তখন প্রায় দুপুর সাড়ে ১২টা। আচমকা হুড়মুড়িয়ে বিপর্যয় নেমে আসে জম্মু-কাশ্মীরের কিশ্তওয়াড়ের চশোতী গ্রামে। সে সময় অ্যাম্বুল্যান্স থেকে নেমে পথে দাঁড়িয়ে দু’দণ্ড জিরিয়ে নিচ্ছিলেন রশিদ। হঠাৎ বিকট শব্দে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নেমে আসে কয়েক ফুট উঁচু পাথর আর কাদার স্রোত।

কিছু বুঝে ওঠার আগেই দৌড়োতে শুরু করেন রশিদেরা। যতক্ষণে নিরাপদ এলাকায় পৌঁছোন, তত ক্ষণে ভয়াবহ সেই হড়পা বানে ভেসে গিয়েছে সব কিছু।মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন রশিদ। হড়পা বানে বিধ্বস্ত এলাকায় ফের ছুটে গিয়ে হাত লাগান উদ্ধারকাজে। সংবাদমাধ্যম টাইম্‌স অফ ইন্ডিয়াকে তেমনটাই জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। কাদামাটির নীচে চাপা পড়া এক প্রৌঢ়ার কেবল হাত এবং মুখ দেখা যাচ্ছিল। কাদা সরিয়ে হাত দিয়ে রশিদ তাঁকে টেনে বের করে আনেন। সেই শুরু। তার পর তিন দিন ধরে একটানা ৬০-এরও বেশি পুণ্যার্থীকে উদ্ধার করেছেন চশোতীর অ্যাম্বুল্যান্স-চালক। সরিয়েছেন মৃতদেহের স্তূপ। কখনও আবার আহতদের পৌঁছে দিয়েছেন হাসপাতালে।

রশিদ কিজিয়াই গ্রামের বাসিন্দা। দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। ২০২২ সালে যোগ দেন ১০৮ অ্যাম্বুল্যান্স সার্ভিসে। মাসিক বেতন ১৪,০০০ টাকা। অবিবাহিত যুবকের বাড়িতে রয়েছেন বাবা-মা, দাদা এবং বৌদি। সেই রশিদের নামই এখন ফিরছে কিশ্তওয়াড়ের মানুষের মুখে মুখে।

কিন্তু আচমকা মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে হড়পা বান নামায় কেউ নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে পারেননি। ফলে একের পর এক ঘরবাড়ি, পুণ্যার্থীদের অস্থায়ী শিবির হড়পা বানের গ্রাসে চলে যায়। শুরু হয় উদ্ধারকাজ। এনডিআরএফ ও সেনার দলের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তিন দিন ধরে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধারকাজ চালান রশিদের মতো স্থানীয়েরাও।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button