

দেশজুড়েই কোভিডের ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত। কিন্তু স্বাস্থ্যকর্তাদের পর্যবেক্ষণ, করোনা চিহ্নিতকরণ বাড়ছে ঠিকই। সেই সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে দ্রুত সুস্থও হয়ে উঠছেন কোভিড আক্রান্তরা। সারা দেশে বৃহস্পতিবার যেখানে অ্যাক্টিভ রোগীর সংখ্যা বেড়েছে ৪৯৮ জন, তেমনই একদিনে করোনা–মুক্ত হয়েছেন বা হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়েছেন ৭৬৪ জন।
একদিনে সুস্থ হয়ে ওঠার নিরিখে বাংলার অবস্থান দেশে তৃতীয়, কেরালা (২৭১) ও দিল্লির (১২৪) ঠিক পরেই। চিকিৎসকরা বলছেন, সাধারণ সর্দি–কাশি–জ্বর এবং শ্বাসনালীর সংক্রমণের চিকিৎসাতেই কোনও রকম জটিলতা ছাড়াই সুস্থ হয়ে উঠছেন করোনার শিকার অধিকাংশ রোগী। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের ওয়েবসাইটের কোভিড ড্যাশবোর্ডের তথ্য অবশ্য বলছে, বৃহস্পতিবারও চার জন কোভিড পজ়িটিভের মৃত্যু হয়েছে দেশে। এর মধ্যে রয়েছেন কেরালার দু’ জন এবং একজন করে কর্নাটক ও পাঞ্জাবের।

চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, মৃত্যু কিংবা জটিলতা একমাত্র তাঁদেরই দেখা যাচ্ছে, যাঁদের রয়েছে কোমর্বিডিটি অথবা বয়স কিংবা দুটোই। সিএমআরআইয়ের ফুসফুস রোগ বিশেষজ্ঞ রাজা ধর বলেন, ‘এখন যে করোনার সাব-ভ্যারিয়েন্টের জেরে মানুষ সংক্রমিত হচ্ছেন, তা বেশ কমজোরি। তবে সংক্রমণ হচ্ছেই। ভর্তিও হচ্ছেন অনেকে, অনেকে আউটডোরে এসে ডাক্তার দেখাচ্ছেন। টেস্টও বেড়েছে, ফলে করোনা ধরাও পড়ছে আগের চেয়ে বেশি। তবে কোমর্বডিটি না থাকলে আর বয়স্ক না হলে ভয়ের কিছু নেই।’
শহরের অন্যান্য সরকারি–বেসরকারি হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, সর্বত্রই কমবেশি করোনা রোগী ভর্তি হচ্ছেন অথবা চিহ্নিত হয়ে বাড়িতেই চিকিৎসা করাচ্ছেন। বিক্ষিপ্ত ভাবে কয়েকটি নজির বাদে জটিলতা কিংবা প্রাণ সংশয়ের ঘটনা ঘটছে না বললেই চলে।তবে করোনার বৃদ্ধিতে এখনও লাগাম পড়েনি। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের পরিসংখ্যান বলছে, বৃহস্পতিবার সারা দেশে অ্যাক্টিভ রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৩৬৪। অ্যাক্টিভ রোগীর সংখ্যায় বৃহস্পতিবারেও দেশে পয়লা নম্বর স্থানে রয়েছে কেরালা (১,৬৭৯)। তার পরে গুজরাট (৬১৫), পশ্চিমবঙ্গ (৫৯৬), দিল্লি (৫৯২) ও মহারাষ্ট্র (৫৪৮)।





