Breaking Newsআরও ≡মহানগররাজ্য

২৬ হাজার চাকরি বাতিলের পর রিভিউ পিটিশনও খারিজ—এবার Special Leave Petition শুনানিতে নির্ভর করছে হাজার শিক্ষকের ভবিষ্যৎ

২০১৬ সালের স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক–শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল করেছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের স্পষ্ট রায়ে জানানো হয়েছে, সেই নিয়োগ প্রক্রিয়া অবৈধ। এর পরেই চাকরিহারা শিক্ষকরা রাজ্যের সঙ্গে মিলে রিভিউ পিটিশন দাখিল করেছিলেন। কিন্তু মঙ্গলবার সেই আবেদনও খারিজ হয়ে যায়।

ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে দাঁড়ায়। শিক্ষা দপ্তরে দীর্ঘ সাত বছর ধরে কাজ করা হাজার হাজার শিক্ষক–শিক্ষিকা মুহূর্তের মধ্যে অস্থিরতার মধ্যে পড়ে যান।এবার তাঁদের একমাত্র ভরসা—Special Leave Petition (SLP)। আজ, বৃহস্পতিবার, সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চে উঠছে সেই মামলা।
যোগ্য শিক্ষক–শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চের নেতা চিন্ময় মণ্ডলের কথায়—“২০১৬ সালের পরীক্ষায় ৪৫ শতাংশ নম্বর পেয়েও বহু প্রার্থী বি.এড. করে চাকরি পেয়েছিলেন। কিন্তু নতুন বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অন্তত ৫০ শতাংশ নম্বর থাকা চাই। ফলে যাঁরা এতদিন পড়াচ্ছেন, হঠাৎ করেই তাঁরা অযোগ্য হয়ে গেলেন।”

শুধু তাই নয়, স্পেশাল বি.এড. প্রার্থীদের জন্যও কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। সংখ্যায় এঁরা প্রায় বারোশো।এদিকে নবম–দশম শ্রেণির পরীক্ষা মাত্র ১৭–১৮ দিন পর, আর একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষা ২৫ দিনের মধ্যে। সেই সময়েই চাকরিহারা শিক্ষকদের নতুনদের সঙ্গে পরীক্ষা দিতে হবে। যোগ্য শিক্ষিকা সঙ্গীতা সাহার কথায়—“আমরা প্রতিদিন স্কুলে ক্লাস নিচ্ছি, খাতা দেখছি। এর মধ্যেই আবার পরীক্ষা দিতে হবে। আমাদের প্রস্তুতিরই সময় দেওয়া হয়নি।”

অভিযোগ আরও গুরুতর। ২০২৫ সালের নতুন বিজ্ঞপ্তিতে বহু পদ একেবারেই বাদ দেওয়া হয়েছে। নবম–দশম শ্রেণিতে ভৌতবিজ্ঞানের সাধারণ ক্যাটেগরির ৩৩০টি পদ উধাও। দৃষ্টিহীন শিক্ষকদের জন্য সংরক্ষিত ৪২টি আসনও নেই। একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণির কম্পিউটার সায়েন্সে ১০টি পদ, ভূগোলের ওবিসি–বি সংরক্ষিত আসন—সব কমে গিয়েছে। নেপালি মাধ্যমে ভৌতবিজ্ঞানের দুটি পদও নেই।চাকরিহারা শিক্ষক রাকেশ আলমের অভিযোগ—“যারা এত বছর ধরে এই পোস্টে কাজ করছেন, বিজ্ঞপ্তি বের হওয়ার আগেই তাঁদের ফেল করিয়ে দেওয়া হল।”

সব মিলিয়ে এখন হাজার হাজার শিক্ষক–শিক্ষিকা তাকিয়ে রয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের দিকেই। আদালত যদি SLP গ্রহণ করে, তাহলে হয়তো পরীক্ষা পিছোতে পারে, মিলতে পারে নতুন সুযোগ। না হলে তাঁদের ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button