টানা বৃষ্টিতে বাঁকুড়ায় ফের বন্যা পরিস্থিতি!

বিভিন্ন নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ার ফলে শনিবার সকাল থেকে জলের তলায় চলে গিয়েছে বাঁকুড়া জেলার বেশ কয়েকটি সেতু এবং রাস্তা। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় ওই সেতুগুলি দিয়ে যাতায়াত বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন অগস্ট মাসের গোড়ায় ভারী বৃষ্টিতে বানভাসি হয়েছিল বাঁকুড়া জেলা। সেই ঘটনার জের কাটতে না কাটতেই নিম্নচাপের ভারী বৃষ্টিতে ফের বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হল বাঁকুড়ায়। বিভিন্ন নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ার ফলে শনিবার সকাল থেকে জলের তলায় চলে গিয়েছে বাঁকুড়া জেলার বেশ কয়েকটি সেতু এবং রাস্তা। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় ওই সেতুগুলি দিয়ে যাতায়াত বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। তার জেরে গোটা জেলায় বিপর্যস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা।
বিপাকে বহু মানুষ। অন্য দিকে, ঝুঁকি নিয়ে জলে ডুবে থাকা কজ়ওয়ে পেরোতে গিয়ে জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে একটি পিক আপ ভ্যান। শনিবার ভোরে ঘটনাটি ঘটে পুরুলিয়ার বান্দোয়ান থানার ভালোপাহাড় এলাকায় আমলি নদীর কজ়ওয়েতে।বুধবার রাত থেকে ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে বাঁকুড়া জেলায়। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮ টা থেকে শনিবার সকাল সাড়ে ৮ পর্যন্ত বাঁকুড়ায় বৃষ্টি হয়েছে মোট ১২২ মিলিমিটার। ভারী এই বৃষ্টিতে শুক্রবার রাত থেকেই ফের ফুঁসতে শুরু করেছে বাঁকুড়ার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া গন্ধেশ্বরী, দ্বারকেশ্বর, কংসাবতী, শালী, ভৈরোবাঁকি-সহ বিভিন্ন নদ-নদী।
দ্বারকেশ্বরে জলস্তর বৃদ্ধির জেরে জলের নীচে চলে গিয়েছে মিনাপুর, ভাদুল ও কেঞ্জাকুড়া এলাকার তিনটি কজওয়ে। বিপদের আশঙ্কায় ওই তিনটি কজ়ওয়ে দিয়েই যাতায়াত বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন।গন্ধেশ্বরী নদীর জল বৃদ্ধি পাওয়ায় শনিবার সকাল থেকেই মানকানালি কজ়ওয়ে জলমগ্ন হয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওই কজ়ওয়ে দিয়ে স্থানীয়েরা হেঁটে পারাপার করলেও যানবাহন চলাচল শনিবার বন্ধ রয়েছে। সিমলাপাল থেকে খাতড়া যাওয়ার রাস্তায় শিলাবতী নদীর সেতু জলের তলায় চলে যাওয়ায় ওই সড়কেও যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন।
ভারী বৃষ্টিতে শালী নদীর জল চলে এসেছে সংলগ্ন রাস্তায়। বাঁকুড়ার পাত্রসায়ের ব্লকের ধগড়িয়া থেকে হদলনারায়ণপুর যাওয়ার রাস্তায় যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ফলে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে হদলনারায়ণপুর-সহ পাত্রসায়ের ব্লকের আট থেকে দশটি গ্রাম। শনিবারও সকাল থেকে লাগাতার বৃষ্টি চলছে বাঁকুড়া জেলায়। বাসিন্দাদের আশঙ্কা, এর ফলে দুর্ভোগ আরও বৃদ্ধি পাবে।





