
ইরান এবং ইজ়রায়েলের সংঘাতের কারণে পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা বেড়েই চলেছে। শনিবার নবম দিনে পড়ল এই সামরিক সং.ঘর্ষ। ইজ়রায়েলে আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়িয়েছে ইরান। এদিন রাত আড়াইটে নাগাদ ইজ়রায়েলের সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) দেশ জুড়ে সতর্কতা জারি করে। ইরান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়ে সতর্ক করা হয় নাগরিকদের। তার কিছু ক্ষণ পরেই তেল আভিভ, ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক-সহ মধ্য ইজ়রায়েলের অধিকাংশ এলাকায় সাইরেন বেজে ওঠে। ইজরায়েলের আকাশ ঢেকে যায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রে। তবে সেগুলিকে আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি আইডিএফের।

অপরদিকে ইজ়রায়েলও পাল্টা হামলা চালায় ইরানে। গভীর রাতে পর পর ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে তেহরানকে লক্ষ্য করে। ইরানের সামরিক ঘাঁটি, ক্ষেপণাস্ত্রের সংরক্ষণকেন্দ্রগুলিকে নিশানা করা হয় রাতের হামলায়। জানা যাচ্ছে ইসফাহান পরমাণুকেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। শুধু তেহরান নয় বন্ধু রাষ্ট্র লেবাননেও হামলা চালায় বেঞ্জামিন নেতানিহুর বাহিনী। শুক্রবার দক্ষিণ লেবাননে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মৃত্যু হয়েছে হিজ়বুল্লার সিনিয়র কমান্ডার মহম্মদ খাদর আল-হুসেইনির। আইডিএফ সুত্রে খবর হিজ়বুল্লা সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল হুসেইনির। ইজ়রায়েলের নাহারিয়া, হাইফার মতো শহরে একাধিক হামলার নেপথ্যে তাঁর হাত ছিল। দীর্ঘ দিন ধরে ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে তিনি ষড়যন্ত্রে যুক্ত।
অপরদিকে শুক্রবার রাতে বসে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক। সেখানে ইরান এবং ইজ়রায়েল, দু’দেশের প্রতিনিধিই যুদ্ধের জন্য পরস্পরকে দোষারোপ করেছেন। সেই সঙ্গে জানিয়ে দিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে লড়াই চালিয়ে যেতে তাঁরা বদ্ধপরিকর। ইরানের প্রতিনিধি আমির সঈদ ইরাভানি বলেন, ‘‘ইজ়রায়েল একতরফা ভাবে, অতর্কিতে আমাদের উপর হামলা চালিয়েছে। আমরা তাই প্রত্যাঘাত করেছি।’’ অন্য দিকে, ইজ়রায়েলের প্রতিনিধি ড্যানি ড্যানন বলেন, ‘‘ইরান এখন আক্রান্ত সেজে নাটক করছে।’’ তাঁর অভিযোগ, আন্তর্জাতিক জনমত উপেক্ষা করে গণবিধ্বংসী অস্ত্র বানিয়ে পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি বিঘ্নিত করছে ইরান।
ইজ়রায়েলের হামলায় প্রথম থেকেই সমর্থন করছে আমেরিকার। সংঘাত প্রসঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানে আক্রমণ না চালানোর জন্য ইজ়রায়েলকে অনুরোধ করা তাঁর পক্ষে ‘কঠিন’ হবে। তবে সেই সঙ্গে তিনি এও জানিয়েছেন, তিনি সমাধান চান কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই। তিনি বলেন, ‘‘মার্কিন সেনা বাহিনীর পদক্ষেপ কী হবে তার জন্য ইরানকে দেওয়া দু’সপ্তাহ সময়ই যথেষ্ট।’’





