Breaking NewsCrimePOLITICSঅন্যান্যআরও ≡বিদেশ

ডঙ্কা বাজল তৃতীয় বিশ্বযু.দ্ধের ?

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে বাজছে যু.দ্ধের দামামা। গত ১০ দিন ধরে সামরিক সংঘর্ষ চালিয়ে যাচ্ছে ইরান-ইজরায়েল। এবার সেই সং.ঘর্ষে সরাসরিভাবে অংশগ্রহণ করল আমেরিকা। রবিবার ভোরে ইরানের তিনটি পারমাণবিক কেন্দ্রে হা.মলা চালিয়েছে আমেরিকা।সমাজ মাধ্যমে সেকথা নিজে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি লেখেন আমেরিকার সেনাবাহিনী ইরানের ফোরদো, নাতানজ ও ইসফাহানে অবস্থিত তিনটি পারমা.ণবিক কেন্দ্রে ‘সফল ভাবে’ হাম.লা চালানো হয়েছে। এই হাম.লার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ট্রাম্প জানিয়েছেন ইরানের কারণে সারা বিশ্বে যে আত.ঙ্কের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা বন্ধ করতে আমেরিকা এই হাম.লা চালিয়েছে।পাশাপাশি ইরানকে হুঁশিয়া.রিও শানিয়েছেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন নিজেদের কার্যকলাপ থেকে ইরান সরে না এলে আগামী দিনে আরও ভয়া.নক এবং আরও প্রাণ.ঘাতী হাম.লা করতে পারে আমেরিকা। ইজরায়েলের সঙ্গে মিলে যে ইরানে এই হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী, তা-ও জানানো হয়েছে।এই প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘‘আমি নেতানিয়াহুকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমরা যে ভাবে দল হিসাবে কাজ করেছি, সে ভাবে হয়তো আর কেউ কখনও করেনি। ইজরায়েলের উপর যে হুমকি রয়েছে, তা মুছে দিতে আমরা কাজ করেছি। ইজ়রায়েলের সেনাবাহিনী অসাধারণ কাজ করেছে।’’ অপরদিকে আমেরিকার হাম.লায় খুশি ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানিয়ে তাঁর সুরেই ‘শান্তির’ বার্তা দিলেন তিনি। বললেন, ‘‘শক্তির মধ্যে দিয়েই শান্তি আসে!’’ ইরানের পর.মাণুকেন্দ্রকে নিশানা করা ট্রাম্পের এক শক্তিশালী সিদ্ধান্ত বলেই মনে করছেন নেতানিহু। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে ‘যু.দ্ধ’ চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। সেইসঙ্গে ইরানে আমেরিকার হামলার পর বিশেশ সতর্ক ইজরায়েল। দেশের আকাশসীমা বন্ধ করে দেন প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।

অপরদিকে আমেরিকার হাম.লার পর প্রথম প্রতিক্রিয়া দিয়েছে ইরান। তারা জানিয়েছে, তাদের পর.মাণুকেন্দ্রগুলি থেকে কোনও তেজ.স্ক্রিয় বিকিরণের খবর পাওয়া যায়নি। ফলে ওই এলাকার মানুষ সুরক্ষিত। চিন্তার কোনও কারণ নেই। সৌদি আরবের পর.মাণু নিয়ন্ত্রক সংস্থার পর্যবেক্ষণও তা-ই বলছে। সৌদি আরবের পর.মাণু পর্যবেক্ষক সংস্থা সমাজমাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ‘‘ইরানের পার.মাণবিক কেন্দ্রগুলি লক্ষ্য করে মার্কিন সামরিক হামলার ফলে সৌদি আরব এবং আরব উপসাগরীয় দেশগুলির পরিবেশের উপর তেজ.স্ক্রিয় কোনও প্রভাব লক্ষ্য করা যায়নি”।

অন্যদিকে ইরানে আমেরিকার হাম.লার পর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব আন্তোনিয়ো গুতেরেস। সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘‘আমেরিকা যে ভাবে ইরানের বিরুদ্ধে আজ বলপ্রয়োগ করেছে, আমি তা দেখে অত্যন্ত শঙ্কিত। যে অঞ্চল এমনিতেই খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে, আন্তর্জাতিক শান্তি এবং নিরাপত্তার জন্য যে অঞ্চল আশঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেখানে ভয়ানক উত্তেজনা তৈরি করা হল। এই সংঘাত এ বার হাতের বাইরে চলে যেতে পারে। পশ্চিম এশিয়া এবং সারা বিশ্বের জন্য পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।’’

আর গুতেরেসের আশঙ্কা সত্যি করে ইতিমধ্যে আমেরিকার জাহাজে ক্ষেপ.ণাস্ত্র হাম.লার ডাক দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের পরামর্শদাতা হোসেন শরিয়তমাদারি। জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীও বন্ধ করে দেওয়া উচিত। তাঁর কথায়, ‘‘আমেরিকার হাম.লার পর এ বার আমাদের পালা। দেরি না করে বাহরিনে আমেরিকার নৌসেনার জাহাজে আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করতে হবে। হরমুজ় প্রণালীতে আমেরিকা, ব্রিটেন, জার্মানি এবং ফ্রান্সের জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিতে হবে।’’ সেইসঙ্গে রবিবার সকালে ক্ষেপ.ণাস্ত্র হা.মলা শুরু হয়েছে ইজ়রায়েলে। এদিন সকাল থেকে তেল আভিভে বাজছে সাই.রেন। জেরুজালেমে একাধিক বিস্ফো.রণের শব্দ শোনা গিয়েছে। সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে বলা হয়েছে।

এই প্রসঙ্গে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ‘‘রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য আমেরিকা ইরানের শান্তিপূর্ণ পার.মাণবিক ঘাঁটিতে আ.ক্রমণ করে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিয়ম এবং আন্তর্জাতিক আইন ভয়ানক ভাবে

লঙ্ঘন করেছে। আজ সকালের ঘটনাগুলি জঘন্য। এর পরিণতি হবে দীর্ঘস্থায়ী। এই ভয়ানক বেআইনি অপরাধমূলক আচরণ নিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জের সকল সদস্যের শঙ্কিত হওয়া দরকার। রাষ্ট্রপুঞ্জের নিয়ম অনুযায়ী আত্ম.রক্ষা, জনগণের স্বার্থ রক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষার অধিকার ইরানের আছে।’’ পাশাপাশি সমগ্র বিস্বে জন্যে বার্তা দিয়েছে ইরান। একটি বিবৃতি জারি করে বলা হয়েছে, “আমরা সতর্ক করে দিচ্ছি যে, ইহুদিবাদী সরকারকে সহায়তা করার জন্য যেকোনো দেশ থেকে জাহাজ বা বিমানের মাধ্যমে সামরিক বা রাডার সরঞ্জামের যেকোনো চালান ইরানের বিরু.দ্ধে আগ্রাসনে অংশগ্রহণ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং সশ.স্ত্র বাহিনীর জন্য একটি বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হবে”।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button