Breaking Newsবিদেশ

ইরানের পাশে উত্তর কোরিয়া, আমেরিকা আছে ইজরায়েলের সঙ্গে!আ.শ.ঙ্কা তৃতীয় বিশ্বযু.দ্ধে.র?

ষষ্ঠ দিনে পড়ল ইরান-ইজ়রায়েল সংঘাত। বুধবার ভোর থেকেই ইরানে হামলার তেজ বাড়িয়েছে ইজ়রায়েল সেনা।  গত কয়েক ঘণ্টায় ইরানে হামলা চালিয়েছে ৫০টিরও বেশি ইজ়রায়েলি বিমান। তেহরানের একটি সেন্ট্রিফিউজ় কারখানায় আঘাত হানা হয়েছে। ওই সেন্ট্রিফিউজ় কারখানা ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। বুধবার সেখানে হামলা চালিয়েছে ইজ়রায়েল। শুধু তা-ই নয়, বেশ কয়েকটি অস্ত্র তৈরির কারখানা লক্ষ্য করে হামলা হয়েছে। পাকশাপাশি ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইজ়রায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজ়রায়েল কাৎজ়। তিনি বলেন আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের ‘পরিণতি’ হবে পড়শি দেশ ইরাকের ক্ষমতাচ্যুত একনায়ক সাদ্দাম হুসেনের মতো।

অপরদিকে ইরানের সেনাবাহিনীর দাবি, ইজ়রায়েলের উপর তারা ‘হাইপারসোনিক’ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। মঙ্গলবার রাত ১২টা ৪০ মিনিট নাগাদ পর পর কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ইজ়রায়েলের দিকে ছুটে আসে। সঙ্গে সঙ্গে বাজতে শুরু করে সাইরেন। এক নাগাড়ে অন্তত ১৫টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। তার পর প্রায় ৪০ মিনিটের বিরতির পর ফের দ্বিতীয় হামলা শুরু হয়। দ্বিতীয় ধাপে মধ্য ইজ়রায়েল এবং ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক লক্ষ্য করে অন্তত ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র ধেয়ে আসে। সেইসঙ্গে যুদ্ধ শুরুহল বলে ঘোষণা করলেন খামেনেই। নিজের এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘‘এ বার যুদ্ধ শুরু হল। সন্ত্রাসবাদী ইহুদি রাষ্ট্রকে আমরা কড়া উত্তর দেব। ওদেরকে কোনও ক্ষমা নয়।’’

সূত্রের খবর ইরানের পাশে দাঁড়িয়েছে কিম জঙের সরকার। অপরদিকে ট্রাম্প আছে নেতানিহুর সঙ্গে। এমনকি ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘সাময়িক সংঘর্ষবিরতি নয়, এর শেষ দেখতে চাই!ইরানকে ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ করতে হবে’। এই পরিস্থিতে বাড়ছে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা। 

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার ইরানের মাটিতে প্রথম হামলা চালায় ইজরায়েল।ইরানের সামরিক ঘাঁটি এবং পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার লক্ষ্য করে আকাশপথে হামলা চালানো হয়। এই হামলার জেরে মৃত্যু হয়েছে ইরান সেনার চিফ অফ স্টাফ মহম্মদ বাঘেরি, রেভোলিউশনারি গার্ডসের কমান্ডার হোসেন সালামি, ইরানের এমার্জেন্সি কমান্ডের কমান্ডার এবং দুই শীর্ষ সেনা আধিকারিকের। পাশাপাশি ৯ জন পরমাণু বিজ্ঞানীকে নিখুঁত পরিকল্পনায় হত্যা করে ইজরায়েল। এই ঘটনার পর ফের মধ্যপ্রাচ্যে বেজে উঠেছে যুদ্ধের দামামা। ইজরায়েলের দাবি, ইরান পরমাণু বোমার খুব কাছে ছিল। নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা করতেই এই হামলা চালানো হয়েছে।যুদ্ধের ষষ্ট দিনে ক্ষয়ক্ষতির রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনা হয়েছে আমেরিকার মানবাধিকার কমিশনের তরফে। যেখানে জানানো হয়েছে, ইজরায়েলের হামলয়ায় মৃত্যু হয়েছে ৫৮৫ জনের। পাশাপাশি আহত হয়েছেন আরও ১৩২৬ জন। এদের মধ্যে, ২৩৯ জন সাধারণ নাগরিক ও ১২৬ জন নিরাপত্তাবাহিনীর জওয়ান। ইজরায়েলকে জবাব দিতে ব্যালেস্টিক মিসাইলের পাশাপাশি এবার সুপারসনিক মিসাইল ছুড়েছে ইরান।  ইজরায়েলের রাজধানী তেল আভিভকে নিশানা করেছে ইরান। যদিও ইরানের হামলায় সেখানে খুব বেশি ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে তেহরানে ইজরায়েলের হামলায় বড় ক্ষয়ক্ষতির খবর আসতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গিয়েছে যে সেখানে বসবাসকারী স্থানীয় ও বিদেশিরা তেহরান ছেড়ে পালাতে শুরু করেছেন। 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button