দেশের মাটিতে বিমান-বিপ*র্যয়ে মৃ*ত্যু মিছিল! জেনে নিন অতীতের কিছু ভ*য়ঙ্কর দু*র্ঘটনার বিষয়ে

ফের মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনা দেশের মাটিতে। টেক অফ করার কিছু মিনিটের মাথায় গুজরাটের আমদাবাদে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ভেঙে পড়ে যাত্রীবাহী বিমান! ইতিহাসের পাতা উল্টে ভারতের দিকে ফিরে তাকালে একাধিক বিমান দুর্ঘটনার কথা উঠে আসে। তবে একটু ভাল করে খেয়াল করলে দেখা যায়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একাধিক বিমান দুর্ঘটনাই ঘটেছে নামার সময়ে। কখনও আবার গন্তব্যে পৌঁছনোর আগেই যাত্রাপথেই ভেঙে পড়েছে বিশালাকার উড়ান। বিমানে আগুন ধরে গিয়েছে। ভূপৃষ্ঠ থেকে অনেকটা উচ্চতায় থাকার দরুণ, বাতাসের সঙ্গে প্রবল ঘর্ষণের ফলে প্রবল বিস্ফোরণও হয়েছে কিছু ঘটনায়।
১৯৯৬ সাল বিমান দুর্ঘটনার ইতিহাসে অভিশপ্ত বছর। ১২ নভেম্বর হরিয়ানায়, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে এবং অল্টিচিউড গত বিচ্যুতির কারণে সৌদি আরবিয়ান এয়ারলাইন্সের Boing 747 -100 বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ৩৪৯ জন যাত্রীরই মৃত্যু হয়েছিল।

এর পর, ১৯৭৮ সালের পয়লা জানুয়ারি, উড়ানে যান্ত্রিক ত্রুটি এবং পাইলটের ভুলের কারণে এয়ার ইন্ডিয়ার Boing 747-200 মুম্বইয়ের কাছে আরব সাগরে দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয়েছিল। প্রাণ হারিয়েছিলেন ২১৩ জন।
১৯৫৩ সালের ২৫ জুলাই, খারাপ আবহাওয়া ও নেভিগেশন ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনার প্রবলে পড়েছিল এয়ার ইন্ডিয়ার Douglas DC-3. যার জেরে প্রাণ হারিয়েছিলেন ১৪ জন যাত্রী। দুর্ঘটনাটি হয়েছিল নাগপুরে।
১৯৬৬ সালের একেবারের বছরের শুরুতেই আরও একটি বড় বিমান দুর্ঘটনার মুখোমুখী হয়েছিল ভারত। ২৪ জানুয়ারি ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের Vickers Viscount দেশের রাজধানী দিল্লির আকাশে বায়ু সেনার একটি উড়ানের সঙ্গে ধাক্কা খায়। ওই বিমান দুর্ঘটনায় ৪৬ জন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছিল।
১৯৭১ সালে অর্থাৎ ঠিক ৫ বছর সেই বছর শুরুর মাসেই আবারও বিমান দুর্ঘটনা হয়েছিল দেশের মাটিতে। এবারেও ঘটনাস্থল ছিল সেই দিল্লি। দৃশ্যমানতা কম হওয়ার জন্যই দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল Fokker F 27. প্রাণ হারিয়েছিলেন ২৩ জন যাত্রী।
১৯৭৬ সালে মুম্বইয়ে বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছিল। জুন মাসের ১২ তারিখ ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের বোয়িং 737-200 রানওয়েতে নামার সময় অঘটনটি ঘটেছিল।
১৯৮১ সালের ২১ জুন গুয়াহাটিতে রানওয়েতে নামার সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল Hawker Siddley HS 748.
১৯৮৫ সালটা ছিল ভারতের কাছে ভয়াবহ। কারণ ওই বছর জুনের ২৩ তারিখ এয়ার ইন্ডিয়ার AI 182-কে লক্ষ্য করে বোমা ছুড়েছিল জঙ্গিরা। প্রাণ হারিয়েছিলেন ৩২৯ জন যাত্রী।
১৯৮৮ সালে পাইলটের ভুল এবং নিয়ম না মানার কারণে, গুজরাতের আহমেদাবাদে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের Boing 737-200. এই দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা ছিল ১৩০ জন।
১৯৯০ সালে এর ১৪ ফেব্রুয়ারি বেঙ্গালুরুতে বিমান দুর্ঘটনায় ৯২ জন যাত্রী প্রাণ হারিয়েছিলেন। পাইলটের ভুলেই দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের Airbus A320-200.

১৯৯৯ সালে ফের আরও একটা অন্ধকারতম বছর ছিল ভারতের জন্য। ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের Airbus A300 বিমানটিকে কান্দাহারে অপহরণ করেছিল দুষ্কৃতীরা। বিমান অপহরণের ঘটনায় ১জন যাত্রীকে হত্যা করেছিল দুষ্কৃতীরা।
২০০০ সালে বিহারের পাটনায় ঘন জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ভেঙে পড়েছিল অ্যালাইন্স এয়ার-র Boing 737-200 যাত্রীবাহী বিমান। পাইলটের ভুলের কারণে সেবার ৫৫ জন যাত্রী প্রাণ হারিয়েছিলেন।
২০১০ সালের ২২ মে এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের Boing 737-800 বিমানটি পাইলটের ভুলের কারণে রানওয়েতেই দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল। কর্ণাটকে ওই দুর্ঘটনার জরে ১৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
২০২০ সালে কেরলে আরও একটি বড়সড় বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছিল। প্রবল বর্ষণের মাঝে অবতরণের সময় একদিকে রানওয়েতে ত্রুটি এবং পাইলটের ভুলের কারণে দুর্ঘটনার মুখোমুখী হয়েছিল এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের Boing 737-800। এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ২১ জন যাত্রী।





