বিজ্ঞান

বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণী ঘিরে নতুন আ.শঙ্কা! নভেম্বরেই কি মানবজাতির সামনে আসতে চলেছে ভিনগ্রহী সংকেত?

“মানবজাতি খুব শীঘ্রই এক বহির্জাগতিক বুদ্ধিমত্তার সংস্পর্শে আসবে এবং সেই যোগাযোগ পৃথিবীর ভবিষ্যতের ওপর ভয়ংকর প্রভাব ফেলতে পারে।” এমনই ভবিষ্যদ্বাণী করেন বুলগেরিয়ার রহস্যময় ভবিষ্যদ্রষ্টা বাবা ভাঙ্গা। এবার চলতি বছরেই কি সেই ঘটনার সূচনা হতে চলেছে বলে দাবি অনেকের। বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণেও সেই ইঙ্গিতই মিলছে। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতনামা জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানী আভি লোয়েব লন্ডনের ইনিশিয়েটিভ ফর ইন্টারস্টেলার স্টাডিজ-এর গবেষক অ্যাডাম হিবার্ড ও অ্যাডাম ক্রাউল একসঙ্গে একটি রহস্যময় মহাজাগতিক বস্তুর সন্ধান পান। বস্তুটির নাম 3I/ATLAS।

সূত্রের খবর, 3I/ATLAS বস্তুটি প্রতি ঘণ্টায় ১৩০০০০ মাইল বেগে সূর্যের দিকে এগিয়ে আসছে। এটি একটি আন্তঃনাক্ষত্রিক বস্তু, অর্থাৎ এই বস্তুটি আমাদের সৌরজগতের বাইরের কোনো গ্যালাক্সি থেকে এসেছে এবং বর্তমানে এটি মঙ্গল, বৃহস্পতি এবং শুক্রের দিকে যাত্রা করছে। ব্যাস প্রায় ১৫ মিটার—যা নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটন শহরের আকৃতির চেয়েও বড়। আভি লোয়েব, যিনি ২০১৭ সালের ‘ওমুয়ামুয়া’ নামক একটি আগন্তুক বস্তু নিয়েও বিতর্ক তৈরি করেছিলেন, ফের দাবি করছেন যে এই বস্তুটিও হতে পারে এক ভিনগ্রহী ‘রেকনেসাঁ প্রোব’ বা গুপ্তচর ড্রোন। তাঁর মতে, 3I/ATLAS-এর গতি ও প্রবেশপথ এমনভাবে বিন্যস্ত, যা একমাত্র ‘বুদ্ধিদীপ্ত নিয়ন্ত্রণ’-এর ইঙ্গিত দেয়। তাঁর মতে, এই বস্তুটি একটি ‘আর্তিফিশিয়াল ইন্টারগ্যালাক্টিক অবজেক্ট’ হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

লোয়েবের এই তত্ত্বকে “বহির্জাগতিক তত্ত্বে আগ্রহী বিজ্ঞানীর কল্পনা” বলে উড়িয়ে দিয়েছেন অনেকেই। তবে গবেষক ত্রয়ীর মতে যদি সত্যিই এটি ভিনগ্রহী প্রযুক্তির তৈরি বস্তু হয়, তবে তা মানবজাতির ইতিহাসে এক ভয়ঙ্কর মোড়ের সূচনা ঘটাতে পারে। কারণ, 3I/ATLAS-এর বেগ এতই বেশি যে, বর্তমানে পৃথিবীর কোনো রকেট বা মহাকাশযান এটি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারবে না—এমনকি পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুতগামী মহাকাশযানও এর গতির এক তৃতীয়াংশও স্পর্শ করতে অক্ষম। সুতরাং যদি এটি সত্যিই ‘ভিনগ্রহী যোগাযোগ’ এর প্রথম ধাপ হয়, তবে মানবজাতি কার্যত অসহায়।

যদিও 3I/ATLAS সত্যিই একটি ভিনগ্রহী বস্তু কিনা, তা ভবিষ্যতের গবেষণাই বলবে। বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি এখনও পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে। গবেষণাপত্রটি এখনও ‘পিয়ার-রিভিউ’ এর মধ্য দিয়ে যায়নি। তবে এই ঘটনার তথ্য ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ইতিমধ্যেই চরম কৌতূহল এবং আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button