
বুধবার রাত থেকে অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশ। এদিন জাতীয় নাগরিক পার্টি বা NCP-র সমাবেশ ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোপালগঞ্জ। দিকে দিকে সংঘর্ষ, আগুন, ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় চারজনের। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন গোপালগঞ্জ শহরের উদয়ন রোডের বাসিন্দা দীপ্ত সাহা (২৫), কোটালিপাড়ার রমজান কাজী (১৮), সদর উপজেলার ভেড়ার বাজারের ইমন (২৪) এবং টুঙ্গিপাড়ার সোহেল মোল্লা (৪১)। এছাড়া এ ছাড়াও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আরও আট জন।

সদর উপজেলার উলপুর-দুর্গাপুর সড়কের খাটিয়াগড় চরপাড়ায় পুলিশের গাড়িতে হামলা ও আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তিন পুলিশকর্মী আহত হন। খবর পেয়ে ওই এলাকা পরিদর্শনে যান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এম রাকিবুল হাসান। সেখান থেকে ফেরার পথে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার কংশুরে ইউএনওর গাড়িতে হামলা করা হয়। এ ঘটনায় তাঁর গাড়ির চালক আহত হন। এরপর ফের এনসিপির নেতারা সভা করতে গেলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এনসিপি নেতৃত্বের দাবি, গোপালগঞ্জ পুরসভা পার্কে তাঁদের সমাবেশ ছিল। তার আগে কয়েকশো সশস্ত্র আওয়ামী সমর্থক ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে দিতে তাঁদের সমাবেশস্থলের দিকে এগোনোর চেষ্টা করেন। আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা মহম্মদ পিয়ালের নেতৃত্বে উন্মত্ত জনতা মঞ্চ ভাঙচুর করতে শুরু করেন। তাঁরা পুলিশের গাড়িতেও আগুন জ্বালিয়ে দেন বলে অভিযোগ। হামলা হয় জেলাশাসকের বাসভবনেও। পুলিশ ও সেনা সাউন্ড গ্রেনেড, কাঁদানে গ্যাসের শেল ও গুলি চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। কোনও রকমে এলাকা ছাড়েন এনসিপির নেতা-কর্মীরা।

এই ঘটনায় বুধবার রাত থেকেই কার্ফু চলছে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার জেলা গোপালগঞ্জে। বৃহস্পতিবার সকালে অবশ্য উত্তেজনা কমেছে। রাস্তাঘাটেও বেরিয়েছেন কেউ কেউ। কিন্তু আতঙ্ক, উৎকণ্ঠার রেশ এখনও কাটেনি। গোপালগঞ্জ-কোটালিপাড়া, গোপালগঞ্জ-টেকেরহাট, গোপালগঞ্জ-ব্যাশপুর রুটে বন্ধ বাস চলাচল। তবে দূরপাল্লার বাস চলছে। স্থগিত এইচএসসি পরীক্ষা। গোপালগঞ্জ চক্ষু হাসপাতালের সামনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত মোট ২০ জনকে আটক করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। যৌথ বাহিনী তাদেরকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে।
গোপালগঞ্জের এই ঘটনা নিয়ে রীতিমতো গনহত্যার অভিযোগ আওয়ামী লিগের। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দলের তরফে সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখা হয়েছে, “খুনি-জঙ্গি-সন্ত্রাসী-অবৈধ-ফ্যাসিস্ট ইউনূস সরকার, তার বখে যাওয়া কিশোর গ্যাং বাহিনী কর্তৃক পূণ্যভূমি গোপালগঞ্জের সাধারণ মানুষ, ছাত্র, শ্রমিক, নারী এবং আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীদের উপর নির্বিচারে-নিষ্ঠুরভাবে গুলিবর্ষণের মাধ্যমে ১৮ জনকে হত্যা, কয়েক শতাধিক আহত হওয়ার প্রতিবাদে এবং দেশধ্বংসকারী মাফিয়া-জালেম গোষ্ঠী ইউনূসকে চিরতরে উৎখাত করার লক্ষ্যে আসন্ন ‘ যমুনা ঘেরাও ‘ কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কতগুলি কর্মসূচি ঘোষণা করছে।”





