
দক্ষিণ কলকাতার নিউ গড়িয়ার একটি অভিজাত আবাসনে চাঞ্চল্যকর খুন। গৃহবধূ বিজয়া দাস (৭৯)-এর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয় বাড়ি থেকে। লুটপাটের উদ্দেশ্যেই খুন বলে মনে করছে পুলিশ। ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছে গৃহকর্মী আয়া আশালতা সর্দার এবং তার পুরুষ সঙ্গী। তাদের হেফাজত থেকে উদ্ধার হয়েছে খোয়া যাওয়া গয়না।
পুলিশ সূত্রে খবর, নিউ গড়িয়ার সমবায় আবাসনের এফ ব্লকের একটি দোতলা বাড়িতে স্বামী প্রশান্ত দাসের সঙ্গে থাকতেন নিহত বৃদ্ধা। কেন্দ্রীয় সরকারি দফতরের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী প্রশান্তবাবুর সদ্য অস্ত্রোপচার হয়েছিল। তাঁর দেখাশোনার জন্যই সাত মাস আগে আয়া নিয়োগ করা হয়। তবে সম্প্রতি কাজে যোগ দেওয়া অভিযুক্ত আয়াই গয়নাগাটি লুট করে খুন করে বৃদ্ধাকে।
শুক্রবার সকালে পরিচারিকা মধুমিতা বাড়িতে এসে প্রথম ঘটনাটি দেখতে পান। সিঁড়ির ধারে পড়ে ছিলেন বিজয়া দেবী। তাঁর মুখ ও হাত-পা বাঁধা ছিল, মাথায় আঘাতের চিহ্ন। একতলার ঘরে খাটের নিচে পড়ে ছিলেন আতঙ্কিত প্রশান্ত দাস। দীর্ঘক্ষণ না খাওয়ায় ওষুধ বা জল ছাড়াই অসহায় অবস্থায় ছিলেন তিনি। পরে আত্মীয়রা তাঁকে উদ্ধার করেন।
তদন্তে নেমে পুলিশ আবাসনের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে। দেখা যায় বৃহস্পতিবার সকালে পরিচারিকা বাড়ি থেকে বেরনোর পরপরই ওই আয়া ঢুকেছিল। তারপর থেকেই বন্ধ হয়ে যায় সিসিটিভি ও মেন সুইচ। পুলিশের অনুমান, বাড়িতে বড় অঙ্কের নগদ অর্থ ও গয়না রয়েছে জেনেই আয়া তার সঙ্গীকে সঙ্গে নিয়ে হামলা চালায়। দুপুরে হোম ডেলিভারির খাবারও সে নিয়েছিল, যাতে কেউ সন্দেহ না করে।
ঘটনার পর অভিযুক্তরা বাড়ির পিছনের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে পালিয়ে যায়। একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে অবশেষে রায়দিঘি থেকে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতদের জেরা করে লুট হওয়া গয়নাগাটি উদ্ধার হয়েছে।





