পার্থর জামিন মঞ্জুর করল না আদালত!

নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় নিম্ন আদালতে সাক্ষীদের বয়ান রেকর্ডের আগে জামিন পাচ্ছেন না রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। সোমবার তা স্পষ্ট করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। তবে জামিন পাওয়ার সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এমএম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি এনকে সিংহ জানিয়েছেন, দু’মাসের মধ্যে নিম্ন আদালতে ওই সাক্ষ্য গ্রহণ করতে হবে। সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, প্রায় তিন বছর ধরে জেলবন্দি পার্থ। এ ভাবে তাঁকে টানা জেলবন্দি করে রাখা বিচারের নামে ‘প্রহসন’ হবে।
নিয়োগ দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০২২ সালের ২২ জুলাই দক্ষিণ কলকাতার নাকতলায় পার্থের বাড়িতে অভিযান চালায় ইডি। দীর্ঘ তল্লাশি এবং জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার করা হয়েছিল তাঁকে। পার্থের ‘ঘনিষ্ঠ’বলে পরিচিত অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের টালিগঞ্জ এবং বেলঘরিয়ার ফ্ল্যাটে হানা দেয় ইডি। টালিগঞ্জের ‘ডায়মন্ড সিটি’ আবাসনে অর্পিতার ফ্ল্যাট থেকে নগদ ২১ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করে ইডি। একই সঙ্গে উদ্ধার হয় প্রচুর বিদেশি মুদ্রা এবং সোনার গয়নাও।
ইডির দাবি, সোনাদানা, ফ্ল্যাট-বাড়ি মিলিয়ে কম করে ৬০ কোটির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়। পরবর্তী কালে গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি-সহ একাধিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় নাম জড়ায় প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর। এসএসসিতে নিয়োগের মামলায় সিবিআই-ও পরবর্তী সময়ে গ্রেফতার করে পার্থ এবং অর্পিতাকে। প্রাথমিক নিয়োগ মামলাতেও নাম জড়ায় পার্থের। ২০২৪ সালের অক্টোবরে তাঁকে ওই মামলায় গ্রেফতার করে সিবিআই।
নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় পার্থকে গ্রেফতার করে সিবিআইও। তিনি ওই মামলায় জামিন চেয়ে তিনি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। সেখানে জামিনের আবেদন মঞ্জুর হয়নি। এর পরে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে মামলাটি শুনানির জন্য ওঠে বিচারপতি কান্ত এবং বিচারপতি বাগচীর বেঞ্চে। বিচারপতি বাগচী জানান, এই মামলাটি তিনি শুনবেন না। মামলার সঙ্গে যুক্ত আইনজীবীরা মনে করছেন, কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি থাকাকালীন পার্থ চট্টোপাধ্যায়দের জামিনের মামলা শুনেছিলেন বিচারপতি বাগচী। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠতে পারে। তাই মামলাটি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি।





