কবি সুভাষ থেকে সেন্ট্রাল—সুড়ঙ্গ, ট্র্যাক ও প্ল্যাটফর্মের ভগ্নদশায় বড়সড় সংস্কারের নির্দেশ, ৯ মাসে খরচ প্রায় ৯০ লক্ষ

কলকাতার মেট্রো রেল পরিষেবার উপর ফের ভর করল উদ্বেগ। কবি সুভাষ মেট্রো স্টেশন পিলারে ফাটল ধরা পড়ায় আগেই স্টেশনটি বন্ধ করা হয়েছিল। আর এবার সামনে এল আরও ভয়াবহ ছবি। সমীক্ষক সংস্থা রাইটসের সাম্প্রতিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, মাটির নিচে থাকা সুড়ঙ্গ থেকে শুরু করে একাধিক প্ল্যাটফর্মের অবস্থা এতটাই দুর্বল যে, জরুরি ভিত্তিতে বড়সড় সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, মাঝে মধ্যেই ব্লু লাইনের বিভিন্ন অংশে পরিষেবা বন্ধ রেখে মেরামতির কাজ চালাতে হতে পারে।
রাইটসের এই রিপোর্ট হাতে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে মেট্রো ভবন। সেন্ট্রাল থেকে কবি সুভাষ পর্যন্ত মেট্রো ট্র্যাক, প্ল্যাটফর্ম, এসি ভালভ-সহ যাবতীয় অবকাঠামো সংস্কারের জন্য তড়িঘড়ি টেন্ডার ডাকা হয়েছে। মোট খরচ ধরা হয়েছে ৮৯ লক্ষ ৭৫ হাজার ৫০ টাকা এবং ন’মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ আগামী কয়েক মাস যাত্রীদের ভোগান্তি যেমন বাড়তে পারে, তেমনই অবকাঠামো মেরামত না হলে বিপদ আরও ঘনীভূত হবে বলেই আশঙ্কা।
রিপোর্টে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, মাটির নিচের মেট্রো লাইনে ট্রেন চালানোর সক্ষমতা থাকলেও বর্তমান অবস্থা খুব একটা অনুকূল নয়। ভেতরের দুর্বলতার কারণে সর্বোচ্চ গতি সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে ঘণ্টায় ৫৫ কিলোমিটারে, অথচ স্বাভাবিক অবস্থায় এই লাইনে ট্রেন চালানো যায় ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার গতিতে। এই পরিস্থিতি যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।রাইটস বিশেষভাবে তিনটি দিককে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বলে চিহ্নিত করেছে মেট্রোর লাইন বা ট্র্যাক, মাটির নিচের সুড়ঙ্গ এবং ডি-ওয়াল, আর প্ল্যাটফর্ম ও পিলার। এর মধ্যে যে কোনও একটি অংশ দুর্বল হলে তার প্রভাব পড়বে গোটা রেল ব্যবস্থার উপর। ফলে একাধিক স্তরে কাজ না হলে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
খোদ জেনারেল ম্যানেজারও এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, যাত্রীদের নিরাপত্তাই মেট্রোর কাছে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং দ্রুত সংস্কারকাজ হাতে নেওয়া হবে। কিন্তু তবুও স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, যখন নতুন মেট্রোপথ উদ্বোধনের প্রস্তুতি চলছে, তখন পুরনো পথের ভগ্নদশা কেন এতদিন নজরে আসেনি? শহরের গর্ব কলকাতা মেট্রো কি তবে ধীরে ধীরে অস্বস্তির আরেক নাম হয়ে উঠছে?





