
নবান্ন অভিযান, বিক্ষোভ বা হুমকি—যেকোনো পরিস্থিতিতে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সামনে থাকেন পুলিশকর্মীরা। আর এবার তাঁদের সুরক্ষার কথা ভেবে লালবাজারের বিশেষ উদ্যোগে আসছে অত্যাধুনিক FRP হেলমেট। এতে খরচ হচ্ছে প্রায় সাড়ে সাত লক্ষ টাকা।

বিরোধীদের হুমকিই হোক বা বিক্ষোভকারীদের চোখরাঙানি, রাজ্যে লেগেই থাকে নবান্ন অভিযান। আর রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা সামলানোর সমস্ত দায় থাকে পুলিশ-প্রশাসনের উপর। আর সেই কথা মাথায় রেখেই এবার থেকে ডিউটি চলাকালীন পুলিশ পরবে এমন হেলমেট, যা হালকা অথচ শক্তপোক্ত। মাথায় ইট বা পাথর এসে পড়লে সেই হেলমেটের কিছু হবে না। কিন্তু অক্ষত থাকবে পুলিশকর্মী ও আধিকারিকদের মাথা। এরকমই দু’ধরনের পাঁচশোটি আধুনিক হেলমেট কিনছে কলকাতা পুলিশ। তার জন্য লালবাজার খরচ করছে সোয়া সাত লক্ষ টাকা। জাতীয় স্তরের পরীক্ষাগারে পরীক্ষার পরই পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হবে এই হেলমেট।

গত কয়েক মাস ধরে কলকাতায় আইন ও শৃঙ্খলা সামলাতে গিয়ে একাধিক সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়েছে বহু পুলিশকর্মী ও আধিকারিকদের। কিছুদিন আগেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার রবীন্দ্রনগর অঞ্চলের সীমান্তবর্তী এলাকায় হামলার মুখে পড়ে পুলিশ। সাধারণত বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আইন ও শৃঙ্খলা সামলানোর সময় ক্রিকেট খেলার হেলমেট ব্যবহার হয়ে এসেছে। কিন্তু সেই ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, খুব ভারী ইট ও পাথর মাথায় এসে পড়ার পর সেই অভিঘাত সামলাতে পারত না সেই হেলমেট। তাই ইটের আঘাতে আহত হত পুলিশ।

একাধিক ঘটনায় দেখা গিয়েছে, মাথায় আঘাত লেগেছে পুলিশের। তাই এবার থেকে যাতে পুলিশকর্মী ও আধিকারিকদের মাথা যাতে অক্ষত থাকে, সেই উদ্যোগ নিল লালবাজার। আপাতত ৫০০টি ‘এফআরপি হেলমেট’ কিনছেন কলকাতা পুলিশের কর্তারা। এর মধ্যে একশোটি হবে নীল রঙের। সেগুলি পরবে র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স বা র্যাফের টিম। বাকি ৪০০টি হবে সবুজ রঙের। সেগুলি ব্যবহার করবেন বাকি বিভাগের পুলিশকর্মীরা। সাধারণভাবে সশস্ত্র পুলিশের মাথায় হেলমেট থাকে। প্রয়োজনে তাঁদেরও ডিউটির সময় এই হেলমেট দেওয়া হতে পারে। পুরুষ ও মহিলা পুলিশ এই হেলমেট ব্যবহার করতে পারবে, এমনটাই লালবাজার সূত্রের খবর।





