বঙ্গোপসাগরে জোড়া ঘূর্ণাবর্ত, বৃষ্টি নামতে পারে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে

ক্যালেন্ডারে অনুসারে বর্ষাকাল শুরু হয়ে গেলেও, দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া তা মনে হবার উপায় নেই। গত কয়েকদিনে চড়চড়িয়ে বাড়ছে তাপমাত্রা, সঙ্গে ভ্যাপসা গরম। যার জেরে নাজেহাল দক্ষিণবঙ্গবাসী। তবে এবার হাওয়া বদলের ইঙ্গিত দিল আবহাওয়া দফতর। টানা কয়েকদিন ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা দক্ষিণবঙ্গের জেলায় জেলায়। আবহাওয়াবিদদের মতে বঙ্গোপসাগরে তৈরি হয়েছে জোড়া ঘূর্ণাবর্ত। একটি দক্ষিণ পূর্ব বঙ্গোপসাগরে। দ্বিতীয়টি পূর্ব মধ্য বঙ্গোপসাগরে। দ্বিতীয়টির অবস্থান উত্তর ওড়িশা উপকূল এবং দক্ষিণ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের থেকে সমান্তরাল দূরত্বে সমুদ্রপৃষ্ঠে। যেটি ১২ জুনের পর থেকে শক্তি সঞ্চয় করে নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। যার প্রভাবে ১৫ থেকে ১৭ জুন দক্ষিণবঙ্গ, দক্ষিণ বাংলাদেশ এবং ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলের একাধিক রাজ্যে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে।

বর্তমানে গরমের দাপট চললেও বৃহস্পতিবার থেকে শনিবারের মধ্যে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা অনেকটাই বাড়বে। দুর্যোগের সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি থাকবে দুই ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম ও হাওড়াতে। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সঙ্গে ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার গতিবেগে দমকা ঝোড়ো বাতাসও বইতে পারে। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। বৃহস্পতিবার দিনভর আংশিক মেঘলা আকাশ থাকবে তিলোত্তমার। এদিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩২.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২৮.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আপেক্ষিক আর্দ্রতা সর্বাধিক ৯০ শতাংশ এবং ন্যূনতম ৭২ শতাংশ। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় গরমের সঙ্গে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তিকর আবহাওয়া জারি থাকবে।

অপরদিকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে উত্তরবঙ্গেও। দার্জিলিংয়ের পাশাপাশি কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, জলপাইগুড়িতে ঝড় বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি থাকবে। উত্তরবঙ্গের আট জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা মাঝারি বৃষ্টির সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া বইবে। বৃষ্টির কারণে সপ্তাহান্তে পারদ পতনও হতে পারে।





