Breaking NewsPOLITICSWorldদেশবিদেশ

বিফলে আলাস্কার বৈঠক! পুতিনের শর্ত মানতে নারাজ জেলেনস্কি

বিফলে আলাস্কার বৈঠক! রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনায় মিলল না সুনির্দিষ্ট সমাধান। ভ্লাদিমির পুতিন শর্তসাপেক্ষে যুদ্ধ থামানোর প্রস্তাব দিলেও তা সরাসরি খারিজ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই বৈঠক ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।

আলাস্কার বৈঠকে ভ্লাদিমির পুতিন তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, ইউক্রেন যদি পূর্ব দোনেৎস্ক এবং লুহানস্ক অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নেয়, তবে রাশিয়া দক্ষিণাঞ্চল—খেরসন ও জাপোরিঝিয়ায় আক্রমণ বন্ধ করতে প্রস্তুত। মূলত ২০১৪ সাল থেকেই দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চলের একাংশ মস্কোর প্রভাবাধীন। সেই পরিস্থিতিকে এবার পুরোপুরি স্থায়ী করতে চাইছে রাশিয়া। বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে, যার মধ্যে দোনেৎস্ক প্রদেশের প্রায় ৭০ শতাংশ দখল করেছে রুশ সেনারা। ফলে এই দুই এলাকা ছাড়াই যে যুদ্ধ থামানো সম্ভব নয়, তা স্পষ্ট করে দিলেন পুতিন। তাঁর প্রস্তাব অনুযায়ী, ইউক্রেন যদি সেনা সরিয়ে নেয়, তাহলে রুশ সেনা তাদের বর্তমান অবস্থানেই যুদ্ধ থামাবে এবং আগ্রাসন আর বাড়াবে না। তবে এতে কার্যত ডনবাস অঞ্চল রাশিয়ার হাতে চলে যাবে, যা ইউক্রেনের জন্য বড় রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক ক্ষতি।

পুতিনের প্রস্তাব খারিজ করেছে ইউক্রেন। এই নিয়ে জেলেনস্কি বলেছেন, সাংবিধানিক পরিবর্তন ছাড়া ইউক্রেন কোনো ভূখণ্ড ছাড়তে পারবে না। দোনেৎস্কের গুরুত্বপূর্ণ শহর স্লোভিয়ানস্ক ও ক্রামাটোর্স্ককে তিনি রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষার দুর্গ বলে বর্ণনা করেছেন। ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার পরও জেলেনস্কি স্পষ্ট করেন, কেবল সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়—তিনি চান স্থায়ী শান্তি এবং দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা গ্যারান্টি। সোমবার ওয়াশিংটনে ফের ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন জেলেনস্কি।

অপরদিকে বৈঠকের পর ট্রাম্প জানান, রাশিয়া বড় শক্তিধর রাষ্ট্র, ফলে শান্তির স্বার্থে ইউক্রেনকে আপস করতে হবে। তিনি দাবি করেন, কেবল যুদ্ধবিরতি যথেষ্ট নয়—প্রয়োজন দীর্ঘস্থায়ী শান্তিচুক্তি। ট্রাম্পের কথায়, তিনি ও পুতিন জমি হস্তান্তর ও ইউক্রেনকে নিরাপত্তা গ্যারান্টি দেওয়ার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে একমত হয়েছেন। কিয়েভের ইউরোপীয় মিত্ররা ট্রাম্পের প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানালেও, রাশিয়ার ওপর চাপ অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ইউক্রেনকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়ার পাশাপাশি ন্যাটো সদস্যপদে কোনও বাধা না রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা। তবে কিছু ইউরোপীয় নেতা এই বৈঠককে পুতিনের জন্য ‘১-০ জয়’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারের মতে, শান্তি প্রক্রিয়ার পথে কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে বটে, কিন্তু রাশিয়ার বিরুদ্ধে চাপ বজায় রাখা জরুরি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button