Breaking Newsরাজ্য

বেপাত্তা ফুলটুসির হদিশ পেতে অ্যাকশনে পুলিশ

প্রোডাকশন হাউসের আড়ালে পর্নোগ্রাফির ব্যাবসা। মেয়েদের ডেকে এনে ঘরে বন্দি করে রাখা হত। পানশালায় কাজের জন্য দেওয়া হত চাপ। শনিবার এরকমই বিস্ফোরক অভিযোগ ওঠে বাঁকড়ার বাসিন্দা আরিয়ান খান এবং তার মা শ্বেতা খান ওরফে ফুলটুসির বিরুদ্ধে। শনিবার ভোরে সোদপুর সুখচর এলাকার বাসিন্দা বছর ২৩ বছরের এক তরুণী আরিয়ান এবং তার মায়ের বিরুদ্ধে খড়দহ থানায় অভিযোগ করেন। অই তরুনী জানান সোশ্যাল মিডিয়ায় হাওড়ার ডোমজুড়ের আরিয়ান খানের পরিচয় হয় তাঁর। এরপর ওই তরুণীকে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের কাজের প্রস্তাব দিয়ে আরিয়ান ডেকে পাঠায় তার হাওড়ার বাড়িতে। এরপর তরুণী কাজের জন্য ওখানে গেলে আরিয়ান খান ও তার মা শ্বেতা খান জানান ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের কোনও কাজ নেই। বার ডান্সারের কাজ করতে হবে। তার জন্য তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। কিন্তু ওই তরুণী রাজি না হওয়ায় তাকে প্রচন্ড মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এরপর তাকে তাদের বাড়িতে আটকে রেখে জোর করে করানো হয় বাড়ির কাজ। কথা না শুনলেই চলত নির্মম অত্যাচার। শনিবার ভোরে কোনমতে পালিয়ে আসেন অই তরুণী। এপরেই থানায় অভিযোগ জানান তিনি।

অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। শনিবার বিকালে খড়দহ থানার পুলিশের সঙ্গে একযোগে হানা দেয় ডোমজুড় থানার পুলিশ।কিন্তু বাঁকড়ায় আরিয়ান খানের বাড়িতে গেলে খালি হাতেই ফিরতে হয় পুলিশকে। ছেলের সঙ্গেই খোঁজ পাওয়া যায়নি আরিয়ানের মা শ্বেতা খানেরও। তবে প্রকাশ্যে আসে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রোডাকশন হাউসের নামে পর্নোগ্রাফির ব্যবসা ছিল আরিয়ান ও তাঁর মায়ের। ইশারা নামক প্রডাকশন হাউস খুলে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টর নাম করে মেয়েদের ডাকা হত। টোপ দেওয়া হত মোটা টাকার। তারপরই তাঁদের পর্নগ্রাফির ব্যবসায় নামানো হত। পাশাপ্সহি স্থানীয়রা জানান এলাকায় ভালই দাপট রয়েছে ফুলটুসির। বারবার সমাজবিরোধী কাজেও জড়িয়েছে তাঁর নাম। গুণধর ছেলে আরিয়ানের নামেও ছিনতাই-সহ নানা অভিযোগে পুলিশের খাতায় জমা পড়েছে অভিযোগ। নেপথ্যে ছিল রাজনৈতিক হাত বলে দাবি তাঁদের। স্থানীয়দের দাবি, তৃণমূলের মিটিং-মিছিলে প্রায়শই উপস্থিত থাকতেন ওই মহিলা। সোদপুর-কাণ্ডের অভিযুক্ত নাকি শাসকদলের সংখ্যালঘু সেলেও ছিলেন। শ্বেতার নামে যে সমাজমাধ্যম প্রোফাইল রয়েছে, সেটিতে তৃণমূলের নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর একাধিক ছবি দেখা যাচ্ছে। যা নিয়ে কটাক্ষ করছেন বিরোধীরা। তবে মন্ত্রী অরূপ রায়ের দাবি, শ্বেতাকে তিনি চেনেন না। তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, জানেন না।

অপরদিকে শ্বেতার প্রাক্তন স্বামী শ্বেতার প্রাক্তন স্বামী মহম্মদ সৈয়দ মোরসেলিমের অভিযোগ টাকা এবং সম্পত্তির লোভে তাকে বিয়ে করেছিল ওই মহিলা। তারপর তাঁকে এবং তাঁর পরিবারের লোকেদের মারধর করত। স্বামী থাকলেও বাড়িতে অন্য পুরুষ বন্ধুদের ডেকে তাদের সঙ্গে ফুর্তি করত। এমনকি হাসপাতালে শ্বশুর ভর্তি অবস্থায় বাড়ির দলিল নিয়ে গিয়ে তার নামে সম্পত্তি লিখিয়ে নেয়। পাশাপাশি মেয়ের আত্মহত্যার জন্যও ফুলটুসিকে দায়ী করেছেন প্রাক্তন স্বামী। তদন্তকারীরা দফায় দফায় শ্বেতার শ্বশুরবাড়ি ও বাপেরবাড়ির লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। বাঁকড়ার ফকিরপাড়ায় শ্বেতাদের প্রতিবেশীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। গতকাল বাঁকড়া ফাঁড়ি ও ডোমজুড় থানার তদন্তকারীরা শ্বেতাদের ফ্ল্যাটে তদন্তে গিয়েছিলেন। ফকিরপাড়ায় ওই ফ্ল্যাটের পিছনের ঝোপ থেকে তরুণীর চুলের কাটা অংশ উদ্ধার হয়েছে। এইসব তথ্য সামনে আসার পর বেপাত্তা ফুলটুসি ও ছেলে আরিয়ানকে ধরতে মরিয়া পুলিশ। মঙ্গলবার শ্বেতার মাকেও দীর্ঘক্ষণ জেরা করেছে পুলিশ। তারপরই তাঁকে আটক করা হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button