বৌকে খুন করে আত্মসমর্পণ

স্ত্রীকে খুন করে বোনকে ফোন, বোনকে প্রণাম। এর পরেই ওই ব্যক্তির আত্মসমর্পণ লিশের কাছে। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল কোন্নগরের মাস্টারপাড়া এলাকায়। কোন্নগর পুরসভার প্রাক্তন কর্মী অশোক চট্টোপাধ্যায় তাঁর স্ত্রী সবিতা চট্টোপাধ্যায়কে মঙ্গলবার রাতে খুন করেন বলে অভিযোগ। ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুধবার সকালে অশোক হঠাৎই দিদি চন্দনা চট্টোপাধ্যায়ের কাছে যান। পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেন দিদিকে। তখন চোখ ছলছল। দিদি বলেন, ‘কী হয়েছে?’ অশোক চট্টোপাধ্যায়ের জানান, ‘দু’দিন পরে আসব।’ চন্দনা দাদার স্ত্রী সবিতার খোঁজ করলে, অশোক জানান, ‘আসছে…’। তারপরেই ‘আমি আসছি’ বলে বেরিয়ে পড়েন।
অশোক চট্টোপাধ্যায়ের পাশের পাড়ায় থাকেন তুতো ভাইয়ের পরিবার। তাঁরা জানান, এর পরেই মাঝ রাস্তা থেকে ত্রিবেণীতে থাকা এক বোনকে ফোন করেন অশোক। ফোন করে জানান বিতাকে তিনি খুন করেছেন। খবর পাড়ায় ছড়াতেই ইচই পড়ে যায়। থানায় খবর দেওয়া হয়। এসে দেখেন, তালা ঝোলানো ঘরের দরজায়। দরজায় তালা দিয়ে স্ত্রীর দেহ বাড়িতে রেখে বেরিয়ে গিয়েছিলেন স্বামী।
পুলিশ এসে দেখে সবিতার গলায় ওড়না জড়ানো। দেহ পড়ে আছে বিছানায়। পুলিশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। অশোকের পরিবারের লোকজনের দাবি, প্রায়ই সবিতার সঙ্গে তাঁর ঝামেলা হতো। এক সময়ে কোন্নগর পুরসভায় একটি বিভাগে কাজ করতেন তিনি। পরে তাঁকে বসিয়ে দেওয়া হয় বলে দাবি পরিবারের।
এই নিয়ে মানসিক অবসাদ কাজ করত অশোকের। আর তা নিয়েই স্ত্রীর সঙ্গে প্রায়ই ঝামেলা হতো বলে দাবি পরিবারের লোকজনের। মঙ্গলবার রাতেও তুমুল অশান্তি হয় স্বামী, স্ত্রীর। এর পরেই এই ঘটনা। উত্তরপাড়া থানার পুলিশ দরজার তালা ভেঙে সবিতা চট্টোপাধ্যায়ের দেহ উদ্ধার করে। শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে বলে সন্দেহ পুলিশের। ঘটনা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।





