গুরুতর অপরাধে গ্রেফতার হলে ছাড়তে হবে মন্ত্রিত্ব, আসছে নয়া বিল

কাউকে রেয়াত নয়। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আপস নয়। এই বার্তাই দিতে চাইছে মোদি সরকার। সেই নিয়ে এবার আসছে সংবিধান সংশোধনী সংক্রান্ত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল। এর মূল বক্তব্য — যে কোনও মন্ত্রী, এমনকি প্রধানমন্ত্রীও যদি গুরুতর অপরাধে গ্রেফতার হন এবং টানা ৩০ দিন জেলে থাকেন, তাহলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাঁকে মন্ত্রীপদ থেকে অপসারণ করা হবে। অর্থাৎ, সাংবিধানিক পদ কোনো রক্ষাকবচ নয়। প্রস্তাবিত সংশোধনী স্পষ্ট করছে, দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগেই শুধুমাত্র গ্রেরতার ও আটকই যথেষ্ট পদ খোওয়ানোর জন্য। তবে একই সঙ্গে মুক্তি পাওয়ার পর আবার পদে ফিরে আসার সুযোগও রাখা হয়েছে বিলে।
বুধবার সংসদে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি বিল পেশ করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। প্রথম কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল প্রশাসন (সংশোধনী) বিল ২০২৫, দ্বিতীয় সংবিধান (১১৩তম সংশোধনী) বিল ২০২৫, তৃতীয় জম্মু ও কাশ্মীর পুনর্বিন্যাস (সংশোধনী) বিল ২০২৫। সব কটি বিলেরই লক্ষ্য সংবিধান সংশোধন। মূলত দুর্নীতি ও গুরুতর অপরাধে জড়িত রাজনৈতিক পদাধিকারীদের কোনো সাংবিধানিক সুরক্ষা না দেওয়া। কেন্দ্রীয় সরকারের যুক্তি — এতে রাজনৈতিক ব্যবস্থায় শুদ্ধতা আসবে এবং আন্তর্জাতিক মহলেও যাবে ইতিবাচক বার্তা।
তবে এই বিলে কেন্দ্র এখনই ভোটাভুটি চাইছে না। কারণ সংবিধান সংশোধনীর জন্য যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন, তা সরকারের হাতে নেই। সংবিধানের ১৩০তম সংশোধনী হিসেবে ধরা এই প্রস্তাবের জন্য বিরোধী দলের সমর্থন জরুরি। এই কারণেই বিলটি পাঠানো হবে যৌথ সংসদীয় কমিটিতে। অর্থাৎ, এখনই বাস্তবায়ন নয়, বরং দীর্ঘ প্রক্রিয়ার সূচনা। তবে রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্ট — দুর্নীতি ও অপরাধে সরকারের অবস্থান কঠোর।
কিন্তু বিরোধী শিবির বলছে, মোদি সরকারের আসল উদ্দেশ্য ভিন্ন। লোকসভায় বিল পেশ হওয়ার আগেই সরব হয়েছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ — এই বিল আসলে বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলির সরকার ফেলে দেওয়ার কৌশল। গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার চেষ্টা চলছে। এক্স-এ পোস্ট করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন — সীমান্ত সুরক্ষা কিংবা পাক অধিকৃত কাশ্মীর নিয়ে পদক্ষেপ করতে ব্যর্থ কেন্দ্র, অথচ বিরোধীদের দমনেই ব্যস্ত বিজেপি।
অভিষেকের আরও অভিযোগ, সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের বদলে বিজেপি সরকার কেবল ক্ষমতা ও সম্পদে আগ্রহী। কৃষক কিংবা দরিদ্র মানুষের জন্য কোনও কাজ নেই সরকারের। বরং বিরোধীদের বিরুদ্ধে ইডি ও সিবিআই ব্যবহার করে ভয় দেখানো হচ্ছে। তাঁর দাবি, এই বিল শুধু বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করার জন্যই আনা হচ্ছে। তৃণমূলের অন্যান্য সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন, মহুয়া মৈত্রও এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন।





