সংসার চালাতে টোটো চালক গাইঘাটার স্কুল ছাত্রী গায়েত্রী

অভাব-অনটনের সংসারে বাবার দীর্ঘ অসুস্থতার পর আর হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারেনি গায়েত্রী হালদার। মাধ্যমিকের ছাত্রী সে, পড়েছে ঢাকুরিয়া বালিকা বিদ্যালয়ে। গৃহশিক্ষক ছিল না, পড়ার ফাঁকেই চালিয়ে গিয়েছে সংসারের দায়িত্ব। তারপর বাবার মৃত্যু যেন তাদের তিনজনের সংসারে আরও অন্ধকার নামিয়ে আনে। বিধবা মা অন্যের বাড়িতে কাজ করেন, দিদি স্নাতক স্তরে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে। সংসারের হাল ধরতে টোটো চালানো শুরু করেছে গায়েত্রী।

গায়েত্রী এখন ঠাকুরনগর রেলস্টেশনের পাশে টোটো নিয়ে দাঁড়ায়, সেখান থেকেই যাত্রী নিয়ে সামান্য কিছু উপার্জন করে মা ও দিদিকে নিয়ে কোনও মতে সংসার চালিয়ে যাচ্ছে সে। তবে চাঁদপাড়া বাজার টোটো স্ট্যান্ডে গাড়ি দাঁড় করানোর মৌখিক আশ্বাস মিললেও রুটে চালানোর সরকারি অনুমতি বা পারমিশন এখনও মেলেনি তার। ফলে প্রতিদিনই পুলিশি জেরার ভয়ে কাজ করতে হয় তাকে।

এমন কঠিন বাস্তবের মধ্যে দাঁড়িয়েও নিজের পড়াশোনা ছাড়েনি গায়েত্রী। শুধু নিজের পরিবারের জন্য নয়, ভবিষ্যতে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার স্বপ্নও সে দেখে। তবে তার এই পথ চলা এখনও কাঁটায় ভরা। বাবার মৃত্যুর পর বিভিন্ন মহল থেকে আশ্বাস পেলেও সরকারি সাহায্য মেলেনি। গায়ত্রীর পরিবার এখনো কোনও সরকারি আর্থিক প্রকল্পের সুবিধা পায়নি বলে অভিযোগ।
আইএনটিটিইউসি জেলা সভাপতি নারায়ণ ঘোষ জানান, গায়েত্রীর বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে ইতিমধ্যে দেখা হয়েছে। ও যেকোনো রুটে যাতে টোটো চালাতে পারে সেকথা স্থানীয় নেতৃত্বকে বলে দেওয়া হয়েছে।

এখন দেখার, এক সাহসিনী কিশোরীর এই সংগ্রামী জীবনযুদ্ধে প্রশাসন কবে তার পাশে দাঁড়ায়। গায়েত্রীর রুট পারমিশন মিললেই অন্তত তার দুশ্চিন্তার একটা বড় বোঝা কমবে। স্কুল, সংসার আর টোটো চালানোর মধ্যে জীবন বাঁচানোর এই লড়াইয়ে প্রশাসনিক সহানুভূতি কি আদৌ মিলবে?





