শ্বশুর, মামাকেই বাবা সাজিয়ে বাংলাদেশির এপিক কার্ড, নজর বাগদায়

এবার বাগদায় এপিক নম্বর পরিবর্তন না করে ভোটারের বাবার নাম এবং ঠিকানা পরিবর্তন করে ভোটার তালিকায় নাম নতিভুক্র করার ভিযোগ উঠল রাজারহাটের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এখন বাগদার বাসিন্দা প্রাণকৃষ্ণ বিশ্বাস নিজের ভোটার কার্ড ফিরে পেতে ব্লক প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন।
প্রাণকৃষ্ণের বাড়ি বাগদার কোনিয়ারা পঞ্চায়েতের রানিহাটি গ্রামে। ১৯৮ নম্বর বুথের ভোটার তিনি। এর আগের ভোট গুলো ১৯৮ নম্বর বুথ থেকেই দিয়েছেন। কিন্তু গত উপনির্বাচনে বাগদা বিধানসভায় ভোট দিতে গিয়েই জানতে পারেন, তিনি আর ১৯৮ নম্বর বুথের ভোটার নন।
পরিবারের বাকি সব লোকের নাম থাকলেও তালিকায় নাম নেই প্রাণকৃষ্ণের। কিছুদিন পরে জানা যায়, রাজারহাটের এক ব্যক্তি প্রাণকৃষ্ণ বিশ্বাসের এপিক নম্বর পরিবর্তন না করে তাঁর বাবার নাম এবং ঠিকানা পরিবর্তন করে ভোটার তালিকায় নাম তুলেছে। অনলাইনে আবেদন করেও মেলেনি কোন সুরাহা। অবশেষে তিনি তার ভোটার কার্ড ফিরে পেতে বাগদা ব্লক প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন।
এ ভাবে কোথাও শ্বশুরকে বাবা সাজিয়ে, কোথাও মামাকে দাদা সাজিয়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের ভারতের ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি করা নিয়ে বাগদার বিজেপি বিধায়ক সহ নেতারা। বিজেপি নেতাদের অভিযোগ বাগদা ব্লকের বয়রা পঞ্চায়েতের একাধিক বুথে ৭৫০ জনেরও বেশি ভুয়ো ভোটার আছে।
বাগদার বিজেপি বিধায়ক দুলালের অভিযোগ, বয়রা অঞ্চলের তৃণমূলের সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি জাভেদ খানের বাবা আসপাকুর খান ও মামা কবিরুল খান। আর এই কবিরুল বাংলাদেশের নাগরিক। বাংলাদেশের ভোটার তালিকাতেও নাম আছে কবিরুলের। পাশাপাশি জাভেদের জ্যাঠা মিজানুর রহমান খানের জামাই মাসুদ খান শ্বশুরকে বাবা বানিয়ে নাম তুলেছেন ভোটার তালিকায়। মাসুদের নামও বাংলাদেশের ভোটার তালিকায় আছে বলে অভিযোগ বিজেপির।
বিজেপি নেতাদের এহেন অভিযোগ স্বীকার করে মিজানুর পাল্টা বলেন ‘মাসুদ আমার ভাইপো। তাকে ছেলের মতোই মানুষ করে তার সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দিয়েছি। বর্তমানে মাসুদ ও মেয়ে বাংলাদেশের বাসিন্দা।’ জাভেদের সাফাই, কবিরুল খান নামে তাঁর কোনও মামা নেই। সম্ভবত ভুল করেই ওই নাম ভোটার তালিকায় চলে এসেছে। তিনি লিখিত ভাবে প্রশাসনকে জানিয়েছেন নামটি কাটার জন্য।
এই প্রসঙ্গে বাগদার বিডিও প্রসূন প্রামাণিক বলেন, ‘এই ধরনের দু-তিনটি অভিযোগ জমা পড়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি বিশ্বজিৎ দাস বলেন, ‘দুলাল বরকে বিজেপি মিছিল মিটিংয়ে ডাকে না। তাই প্রচারে আসার জন্য এ সব করছেন। যদিও এসব করে কোনও লাভ হবে না।’





