
চলতি সপ্তাহেই বর্ষা ঢুকেছে দক্ষিণবঙ্গে। আর ঢুকেই ছক্কা হাঁকাচ্ছে সে। শুক্রবারেও সকাল থেকেই মুখভার আকাশের। বেলা বাড়লেও রোদের দেখা নেই। মাঝে মাঝে টিপ টিপ করে পড়ছে বৃষ্টি। হাওয়া অফিস সূত্রে খবর ২৫ জুন পর্যন্ত কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায় হাল্কা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টির সঙ্গে কোনও কোনও জেলায় ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিমি বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায়। কিছু কিছু জায়গায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতাও জারি করা হয়েছে। বিক্ষিপ্ত ভাবে ঝড়বৃষ্টি হতে পারে কলকাতা, হাওড়া, হুগলি দুই ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়ায়। পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও পশ্চিম বর্ধমানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান এবং বীরভূমে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। নিম্নচাপের কারণে উত্তাল থাকবে সমুদ্রও। এ নিয়ে মৎস্যজীবীদেরও সতর্ক করা হয়েছে।

একটানা বৃষ্টিতে গরম থেকে কিছুটা হলেও স্বস্তি মিলেছে। বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রাও এক ধাক্কায় অনেকটা কমে গিয়েছে। শুক্রবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ ৯০ থেকে ৯৮ শতাংশ। একই পূর্বাভাস রয়েছে হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়ায়।
দক্ষিণবঙ্গে সবেমাত্র বর্ষার প্রবেশ হলেও উত্তরবঙ্গে বর্ষা ঢুকেছে বেশ কয়েকদিন আগে। বর্ষার বৃষ্টি চলছে উত্তরবঙ্গের জেলায় জেলায়। উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি এবং উত্তর দিনাজপুরে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা থাকছে সপ্তাহ জুড়েই। রবিবার দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ে প্রবল বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। মালদা ও দক্ষিণ দিনাজপুরে বজ্রবিদ্যুৎ–সহ ঝড়বৃষ্টির আশঙ্কা থাকছে। আগামী সপ্তাহের শুরু পর্যন্ত টানা চলবে এই দুর্যোগ। বৃষ্টির পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার দাপট দেখা যেতে পারে। পাহাড়ি এলাকাগুলিতে বৃষ্টির জেরে ধ্বস নামার আশঙ্কাও রয়েছে। পাশাপাশি কুয়াশাজনিত কারণে দৃশ্যমানতা কমতে পারে। তাই সড়কপথে যান চলাচলের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।





