হড়পা বানে ভাসল পাকিস্তান! মৃ.ত্যু অন্তত ২৪৩ জনের!

হড়পা বানে বিপর্যস্ত পাকিস্তান। এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে অন্তত ২৪৩ জনের। নিখোঁজ শতাধিক। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের বুনার জেলা। ওই এলাকাতেই বন্যার কারণে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১৫৭ জনের।
সূত্রের খবর, মুষলধার বৃষ্টির জেরে গত শুক্রবার খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বহু জেলায় হড়পা বান দেখা দেয়। বন্যায় বহু বাড়িঘর, গাড়ি, স্কুল এবং স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি কারাকোরাম হাইওয়ে এবং বালতিস্তান হাইওয়ে সহ বিভিন্ন স্থানে ধসের জেরে রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। উত্তর-পূর্ব নীলম উপত্যকাও বড় ধরনের ধস নেমেছে। লাওয়াত নালার উপর দুটি সংযোগকারী সেতুও ভেসে গিয়েছে। জাগরণ নালা কুন্ডাল শাহিতে একটি সেতু ভেসে গিয়েছে। ঝিলম উপত্যকায় পালহোটে হড়পা বানের ফলে রাস্তার কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি নীলম নদীর জল দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন বন্যার সতর্কতা জারি করেছে।
এই ঘটনার জেরে মৃত্যু হয় ২০০ জনের। নিখোঁজ ছিলেন আরও বহু মানুষ। শনিবার প্রশাসনের তরফে জানা গিয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে আরও ১০৭ জনের মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছে। যার জেরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০৭। তার মধ্যে বুনারে মৃত্যু হয়েছে ১৮৪ জনের। শাংরায় ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, মানেহরায় ২৩, সোয়াত ২২, বাজাউর ২১, বাটাগ্রাম ১৫। এছাড়া লোয়ার দির অঞ্চলে ৫ জন ও অ্যাবোটাবাদে জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে এক শিশুর। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ওইসব অঞ্চলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এদিকে উদ্ধারকাজ চালানোর সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে মৃত্যু হয়েছে ২ হেলকপ্টার সদস্যের।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে বর্ষার সবচেয়ে বিধ্বংসী মরসুম দেখেছিল পাকিস্তান। বন্যা এবং হড়পা বানে ১৭০০-র বেশি মানুষ মারা গিয়েছিলেন। কয়েকশো কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। সম্প্রতি জম্মু ও কাশ্মীরেও মেঘভাঙা বৃষ্টির ফলে বিপর্যয় ঘটেছে। কিশ্তওয়াড়ে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৬০ জনের। এখনও অনেকে নিখোঁজ।





