Breaking Newsঅন্যান্য

এখনই বসবে না স্মার্ট মিটার!

ফের সাধারণ মানুষের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ এক সিদ্ধান্ত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিদ্যুৎ পরিষেবার ক্ষেত্রে গৃহস্থের বাড়িতে আধুনিক প্রযুক্তির স্মার্ট মিটার বসানো নিয়ে কয়েকদিন ধরে একাধিক জেলা থেকে বিক্ষোভের খবর আসছিল। মন্ত্রিসভার বৈঠকেও বিষয়টি উত্থাপিত হয়। এনিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে বিস্তারিত জানান স্বয়ং বিদ্যুৎমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। তারপরই সোমবার গৃহস্থ বাড়িতে স্মার্ট মিটার লাগানো বন্ধ রাখা হল। বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়ে দেয় রাজ্য বিদ্যুৎ দপ্তর। যদিও গত কয়েকমাসে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, সরকারি অফিস এবং টেলি কমিউনিকেশন টাওয়ারের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফলভাবে স্মার্ট মিটার বসিয়েছে রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন নিগম।

দিল্লি, মুম্বইয়ের মতো একাধিক মহানগর-শহরের মতো আধুনিক প্রযুক্তির এই মিটার সর্বত্র চালু হলে বিদ্যুতের খরচ অনেকটাই কম এবং নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলে বিদ্যুৎ বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। বস্তুত এই কারণে রাজ্য সরকারের বিদ্যুৎ দপ্তরের তরফে পরীক্ষামূলকভাবে রাজ্যের তিন-চারটি জেলায় গৃহস্থের বাড়িতেও স্মার্ট মিটার বসানো হয়। স্মার্ট মিটার বসানো নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। অভিযোগ উঠেছে, এর ফলে বিদ্যুতের বিল বেশি আসছে। এই আবহে রাজ্য বিদ্যুৎ দফতর বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়ে দিল, সরকারি বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ছাড়া উপভোক্তাদের বাড়িতে আপাতত স্মার্ট মিটার বসানো বন্ধ রাখা হল। তাদের তরফে জানানো হয়েছে, কিছু অভিযোগ পেয়ে প্রয়োজন মতো পদক্ষেপ করার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়ে রাজ্যের এই পদক্ষেপকে কটাক্ষ করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

স্মার্ট মিটার চালু হলে রাজ্যের বিদ্যুৎ গ্রাহকরা কী কী বাড়তি সুবিধা পাবেন তা নিয়ে বিদ্যুৎ বিশেষজ্ঞরা নানা তথ্য জানিয়েছেন। প্রিপেড মোবাইল রিচার্জ করার মতোই স্মার্ট মিটারের ব্যবহার বলে গ্রাহকদের নিশ্চিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। বিদ্যুৎ দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, সাধারণ মিটারে এতদিন যে টাকা সিকিউরিটি ডিপোজিট ছিল, সেটাও স্মার্ট মিটারে শুরুতেই ব্যবহার করতে পারবেন। একই সঙ্গে যদি প্রিপেড টাকা শেষ হয়ে যায় তা হলে সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাবে না বলে নিশ্চিত করেছেন বিদ্যুৎ বণ্টন নিগমের শীর্ষ ইঞ্জিনিয়াররা। তাঁদের আরও বক্তব্য, আরও ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারবেন স্মার্ট মিটারের গ্রাহকরা। তাই স্মার্ট মিটারে বেশি বিল আসবে বলে যে গুজব ছড়ানো হচ্ছে তা ভ্রান্ত এবং বিজ্ঞানভিত্তিক নয় বলে দাবি বিদ্যুৎ বিশেষজ্ঞদের।
রাজ্য বিদ্যুৎ দফতরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, সরকারি দফতর এবং টেলিকমিউনিকেশন টাওয়ারের মতো জায়গায় ‘সফল ভাবে’ স্মার্ট মিটার লাগানো হয়েছে। তার পরে তিন-চারটি জেলায় কিছু সংখ্যক উপভোক্তার বাড়িতেও পরীক্ষামূলক ভাবে স্মার্ট মিটার বসানো হয়। কিন্তু তা নিয়ে কিছু অভিযোগ পেয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার জন্য আপাতত উপভোক্তাদের বাড়িতে স্মার্ট মিটার বসানো বন্ধ রাখা হচ্ছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button