কানাপুকুর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরে চলছে দালাল রাজ, তলানিতে স্বাস্থ্য পরিষেবা
হাসপাতালে নেই যথাযথ চিকিৎসা ব্যবস্থা। চলছে দালালরাজ। আবার চিকিৎসকরা অনেক সময় রোগীকে পর্যবেক্ষণ না করেই চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন দালালদের কথামতো। কোন রোগীর কী চিকিৎসা হবে, কোন ওষুধ লেখা হবে কিংবা কখন কোন টেস্ট করানো হবে—সব কিছুই নিয়ন্ত্রণ করছে দালাল চক্র। এমনই গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ উঠেছে কানাপুকুর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ পেটের সমস্যা বা মাথাব্যথার মতো সাধারণ সমস্যা নিয়েও যারা হাসপাতালে আসছেন, তারা ডাক্তারদের কাছ থেকে কোনরকম পরিষেবা পাচ্ছেন না। ডাক্তাররা পরিষেবার বদলে নানান পরীক্ষা প্রেসক্রিপশনে লিখে দিচ্ছে, বাধ্য হয়ে রোগীর পরিবারকে সেই পরীক্ষা করাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের আরও দাবি, এই সমস্ত টেস্ট নির্দিষ্ট কিছু বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানো হয়, যেখান থেকে দালাল ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা মোটা কমিশন নিচ্ছেন।
এরই মধ্যে আরও এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে—সম্প্রতি একটি দুর্ঘ.টনার শিকার হওয়া রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁর শরীর স্পর্শ না করেই, ব্যান্ডেজ না করেই সরাসরি রেফার করে দেন। এমন অমানবিক আচরণের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষো.ভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

এই অবস্থায় ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে মানুষ প্রবল অসন্তোষে ফুঁসছে। প্রশ্ন উঠছে—একটি সরকারী হাসপাতালের ভেতরে কীভাবে এত বড় দালাল চক্র গড়ে উঠল? প্রশাসন এতদিন কী করছিল?
স্বাস্থ্যদপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিক ও ব্লক প্রশাসনের কাছে সাধারণ মানুষের দাবি, অবিলম্বে এই দালাল চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং স্বাস্থ্য পরিষেবাকে স্বচ্ছ ও কার্যকর করে তোলার ব্যবস্থা করতে হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, যদি দ্রুত প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে একদিন সাধারণ মানুষ সম্পূর্ণভাবে সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে।





