বিমান বি.পর্য.য়ে মুখ খুললেন এয়ার ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান

কী ত্রুটি ছিল এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানে ? বিমান কেন ভেঙে পড়েছিল ? উড়নে কি কোন যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল ? এবার মুখ খুললেন এয়ার ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরন। চলছে তদন্ত। এত কিছুর মধ্যে মুখ খুললেন এয়ার ইন্ডিয়া এবং টাটা সন্সের চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরন। সময় দিতে হবে তদন্তের জন্য, তবেই বেরিয়ে আসবে আসল তথ্য। জাতীয় একটি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমনই জানালেন চন্দ্রশেখরন। তুরস্কের একটি সংস্থা এই উড়ান তদারকির দায়িত্বে ছিল ? ওই সাক্ষাৎকারে সে ব্যাপারেও উত্তর দিয়েছেন তিনি।

লন্ডনগামী উড়ানটি ১২ জুন আমেদাবাদের বিজে মেডিক্যাল কলেজের হস্টেলের উপর আছড়ে পড়ে। এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ২৭০ জনের বেশি মানুষ। ফ্লাইটের ব্ল্যাক বক্স থেকে চলছে তথ্য উদ্ধারের কাজ। চন্দ্রশেখরন দুঃখপ্রকাশ করেছেন এই দুর্ঘটনা নিয়ে । ওই সাক্ষাৎকারে চন্দ্রশেখরন বলেছেন, ‘অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতি, যেখানে নিহতদের পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য আমার কাছে কোনও ভাষা নেই। আমি গভীরভাবে দুঃখিত। এই মুহূর্তে এবং পরেও পরিবারগুলির পাশে থাকার জন্য আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করব।’
তবে কোথায় ছিল ত্রুটি ? কেন এই দুর্ঘটনা হলো ? চন্দ্রশেখরনের বক্তব্যে , ‘এখনও পর্যন্ত আমি যা জানি তা হলো, এই বিমানটির (AI-171) রেকর্ড স্বচ্ছ। ফ্লাইটের ডান দিকের ইঞ্জিন নতুন ছিল। যা ২০২৫ সালের মার্চ মাসে লাগানো হয়েছিল। বাঁ দিকের ইঞ্জিনটি ২০২৩ সালে সার্ভিসিং করা হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে পরবর্তী রক্ষণাবেক্ষণ পরীক্ষা করার কথা ছিল।’
চন্দ্রশেখরনের মনে করছেন, ফ্লাইটে যে দু’জন ক্যাপ্টেন ছিলেন তারা যথেষ্ট দক্ষ। সাভারওয়ালের উড়ানের অভিজ্ঞতা ছিল ১১,৫০০ ঘন্টারও বেশি। পাশাপাশি প্রথম অফিসার ক্লাইভ (কুন্দর)- এর উড়ানের অভিজ্ঞতা ছিল ৩৪০০ ঘন্টারও বেশি। সেকারণে কেন দুর্ঘটনা হল তা নিয়ে এখনই কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব হচ্ছে না। ব্ল্যাক বক্স থেকে যদি প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যায় তবে বিষয়টি বোঝা যাবে। অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোন উপায় নেই বলেই জানান চন্দ্রশেখরন।

ডি.জি.সি.এ এয়ার ইন্ডিয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছে ফ্লাইটের সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে। প্রশ্ন তোলা হয়েছে ফ্লাইট তদারকির জন্য তুরস্কের সংস্থার কোনও দায় রয়েছে কি না সে ব্যাপারে। বিষয়টিতে চন্দ্রশেখরনের দাবি, ‘যদি কোনও সুরক্ষা সংক্রান্ত সমস্যা থাকে, তবে ডিজিসিএ আমাদের উড়ানের অনুমতি দেবে না। এগুলির কোনওটিই (33টি ড্রিমলাইনার) তুরস্কের টেকনিক দ্বারা রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় না। এগুলির বেশিরভাগই AIESL (AI ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসেস লিমিটেড) অথবা SIA ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (যাদের মূল সংস্থা সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স) দ্বারা রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়।’
সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের ‘নীরবতা’ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী প্রফুল প্যাটেল । সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স এয়ার ইন্ডিয়ার শেয়ারহোল্ডার। পাশাপাশি দায়িত্বে রয়েছে ওয়াইড-বডি বিমান রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে। চন্দ্রশেখরন আরও জানিয়েছেন, একটি দুর্দান্ত অংশীদার হল সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স। এয়ার ইন্ডিয়ার দায়িত্ব আমরা নেওয়ার পর থেকে তারা আমাদের সহায়তা করেছে বিভিন্ন দিক থেকে। এমনকী কিছু কিছু সুরক্ষা পদ্ধতি আছে যা, আমরা নিয়েছি সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স থেকে ।





