রক্তচাপ কমে গিয়ে মৃ.ত্যু শেফালির! কেন হঠাৎ কমে গেলো রক্তচাপ? জানুন ‘ কাটা লাগা গার্লের ‘ মৃ.ত্যুর আসল কারণ

২০০২ সালের ঝড় তোলা মিউজিক ভিডিও ‘কাঁটা লগা’-র সৌজন্যে সারা দেশজুড়ে রাতারাতি পরিচিতি পেয়েছিলেন শেফালি জারিওয়ালা। পপ সংস্কৃতির অন্যতম মুখ হয়ে উঠেছিলেন তিনি। কিন্তু শুক্রবার রাতে, মাত্র ৪২ বছর বয়সে আচমকাই থেমে গেল তাঁর জীবন। মুম্বইয়ের অন্ধেরির বেলেভিউ মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এই অকালমৃত্যু ঘিরে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। প্রাথমিকভাবে ময়নাতদন্তে কোনও অস্বাভাবিকতার ইঙ্গিত না মিললেও চিকিৎসকদের একাংশের সন্দেহ, হঠাৎ রক্তচাপ কমে গিয়েই মৃত্যু হয়েছে শেফালির। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে আচমকাই অজ্ঞান হয়ে পড়েন অভিনেত্রী। তখনই তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। শেফালির স্বামী, টেলিভিশন অভিনেতা পরাগ ত্যাগীর বয়ান অনুযায়ী, আগের দিন সত্যনারায়ণ পূজার কারণে তিনি উপবাস করেছিলেন। রাতে আগের দিনের রান্না করা খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই অজ্ঞান হয়ে যান তিনি।

প্রাথমিক চিকিৎসায় চিকিৎসকরা জানান, সম্ভবত হৃদ্রোগজনিত কারণে (কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট) মৃত্যু হয়েছে। মৃতদেহ পাঠানো হয় জুহুর আর. এন. কুপার হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য। সেখানকার চিকিৎসকেরাও জানিয়েছেন, শেফালির রক্তচাপ অত্যন্ত কম ছিল, যা মৃত্যুর অন্যতম সম্ভাব্য কারণ হতে পারে।

এদিকে, অভিনেত্রীর বাড়ি থেকে পাওয়া গিয়েছে দুটি ওষুধের বাক্স, যাতে অ্যান্টি-এজিং, স্কিন গ্লো এবং ভিটামিন ট্যাবলেট ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের সদস্যদের মতে, ওই ওষুধগুলি শেফালি নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই সেবন করতেন, যদিও তাতে কোনও শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়নি বলে দাবি তাঁদের। পুলিশ ইতিমধ্যেই দুর্ঘটনাবশত মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে এবং পরিবারের সদস্য ও স্বামীর বিবৃতি রেকর্ড করেছে। আপাতত ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টের অপেক্ষায় তদন্তকারীরা।

শনিবারই তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করেছেন পরিজনেরা। ২০০২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘সমৃদ্ধি’ ছবির রিমেক গানে ‘কাঁটা লগা’ দিয়ে শোবিজ দুনিয়ায় প্রবেশ করে সারা দেশে ঝড় তুলেছিলেন শেফালি জারিওয়ালা। গানের পর গ্ল্যামার দুনিয়ায় সম্ভাবনাময় মুখ হিসেবে ধরা দিলেও, কিছুদিনের মধ্যেই তিনি নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন লাইমলাইট থেকে। আজ, সেই আলো-ঝলমলে সফর হঠাৎই থেমে গেল। তাঁর চলে যাওয়ায় শোকস্তব্ধ বলিউড থেকে শুরু করে ভক্তমহল—উত্তর মেলেনি অনেক প্রশ্নের, রয়ে গেছে শুধুই শূন্যতা।





