অত্যা*চারে শীর্ষে বিজেপি-শাসিত ৫ রাজ্য! দাবি কেন্দ্রীয় রিপোর্টের

জুন মাস! নরেন্দ্র মোদীর তৃতীয় সরকারের প্রথম বর্ষপূর্তি। গোটা জুন মাসে মোদী সরকারের গুণগান প্রচার চলে দেশ-বিদেশে। তবে এবার, এক চাঞ্চল্যকর রিপোর্টে উঠে এল অপরাধের ভয়াবহ পরিসংখ্যান। অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অব সিভিল রাইটস অর্থাৎ এপিসিআর-এর প্রকাশিত এক সমীক্ষা বলছে, ২০২৪ সালের ৭ জুন থেকে ২০২৫-এর ৭ জুন পর্যন্ত এক বছরে দেশে বিদ্বেষমূলক এবং নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে মোট ৯৪৭টি। এই ঘটনাগুলির মধ্যে ৩৪৫টি সরাসরি বিদ্বেষমূলক অপরাধ এবং বাকি ঘটনায় সংখ্যালঘুদের উপর ভয়ঙ্কর নির্যাতন করা হয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হল, এই অপরাধগুলির প্রায় ১৮ শতাংশ ঘটনায় জড়িত রয়েছেন বিজেপি নেতারা। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর নাম জড়িয়েছে পাঁচটি অভিযোগে, অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন দুই বিচারপতি, এক রাজ্যপাল ও একাধিক বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী।
এই এক বছরে ২৫ জন মুসলিম সংখ্যালঘুর মৃত্যু হয়েছে একাধিক অপরাধমূলক ঘটনায়। অত্যাচারের শিকার শধু মুসলিমরাই নন, তালিকায় রয়েছেন দলিত, আদিবাসী, খ্রিস্টানসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সংখ্যালঘুরা। রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসেই ঘটেছে প্রায় ৮০ টি ঘটনা। উৎসবের সময়কালেই সংখ্যালঘুদের উপর নেমে এসেছে বিদ্বেষের ঝড়। মধ্যপ্রদেশের পান্নায় মুসলিমদের বাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়, মহারাষ্ট্রের থানে-তে হামলা চালানো হয় মুসলিম বসতিতে, আর উত্তরপ্রদেশের বাঘপতে এক মুসলিম যুবক হোলির অনুষ্ঠানে অংশ না নেওয়ায় আক্রান্ত হন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের বিদ্বেষমূলক অপরাধে শুধু আক্রান্তের সংখ্যা নয়, গভীর রাজনৈতিক এবং সামাজিক প্রতিক্রিয়াও ভয়াবহ। একদিকে ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’-এর স্লোগান, অন্যদিকে সংখ্যালঘুদের উপর এইধরণের নির্যাতনের ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান নিয়েই উঠছে প্রশ্ন।
অন্যদিকে, এপিসিআরের রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রশাসন এই সমস্ত ঘটনার তদন্তের ক্ষেত্রে একাধিকবার নীরব থেকেছে, অনেক ক্ষেত্রেই মামলা দায়ের হয়নি। রাজনৈতিক প্রশ্রয়ে অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গিয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলির মতে, এই নীরবতা আসলেই রাজনৈতিক সুবিধার অপব্যবহার। সংখ্যালঘুদের উপর ক্রমবর্ধমান হামলা দেশের গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার স্তম্ভকে প্রতিনিয়ত আঘাত করে চলেছে। এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।





