
ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগ। শিখ সংগঠনের রোষে বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার। বালুরঘাটের সাংসদের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তির দাবি জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখলেন তাঁরা। ইতিমধ্যেই শিরোমণি গুরুদ্বার প্রবর্ধক কমিটির তরফে সুকান্তর বিরুদ্ধে এফআইআরও করা হয়েছে।
জানা যাচ্ছে গত মাসে দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মহেশতলা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। কিন্তু পুলিশকে লক্ষ্য করেই ইটবৃষ্টি শুরু হয়। ইটের আঘাতে রক্তাক্ত হন এক পুলিশকর্মী। রবীন্দ্রনগর থানার সামনে রীতিমতো তাণ্ডব চলে। রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়রা। ভাঙচুর চলে পুলিশের গাড়িতেও। এরপরই এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি করে পুলিশ।
এরপর বিজেপি কর্মীদের নিয়ে মহেশতলা যান সুকান্ত। কিন্তু রাস্তাতেই তাঁদের আটকে দেয় পুলিশ। বাধা পেয়ে তুলসীগাছ দিতে কালীঘাটের উদ্দেশে রওনা দিতে যান সুকান্ত। তখনই তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অভিযোগ, প্রিজন ভ্যানে তোলার সময়ে এক শিখ পুলিশ কর্মীর দিকে হাওয়াই চটির ছবির একটি কাটআউট ছুড়ে মারেন সুকান্ত।
এই ঘটনার ভিডিয়ো ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। ক্ষোভে ফেটে পড়েন শিখ সম্প্রদায়ের মানুষজন। সুকান্তকে অবিলম্বে ক্ষমা চাইতে হবে বলে দাবি তোলেন তাঁরা। এরপর ১৭ জুন এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে ক্ষমা চেয়ে নেন সুকান্ত। কিন্তু তাতে শান্ত হয়নি শিখ সংগঠন। এবার সুকান্তর বিরুদ্ধে এখন আইনি শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন তাঁরা।
প্রসঙ্গত গত ১৭জুন এক্স হ্যান্ডেলে সুকান্ত লেখেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনের সামনে একটি বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের সময়, কলকাতা পুলিশ আমাকে বলপূর্বক প্রিজন ভ্যানে তোলে। সেই সময় পুলিশের উদ্দেশে ছোড়া একটি প্ল্যাকার্ড দুর্ঘটনাবশত আমার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক শিখ ধর্মাবলম্বী সিআইএসএফ কর্মীর পবিত্র পাগড়ির উপর পড়ে। এই অনিচ্ছাকৃত ঘটনায় যদি কোনও শিখ ভাই বা বোনের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগে থাকে, তবে আমি বিনম্রভাবে তাঁদের কাছে আন্তরিক ক্ষমা প্রার্থনা করছি।”





