“মহাকাশ থেকে ভারতকে এখন অনেক আত্মবিশ্বাসী লাগে” বললেন শুভাংশু , মঙ্গলবার ফিরছেন পৃথিবীতে

শুভাংশু শুক্লা সহ বাকি চার মহাকাশচারীদের নিয়ে পৃথিবীর দিকে এগিয়ে আসছে স্পেসএক্স-এর ড্রাগন মহাকাশ যান। সোমবার ভারতীয় সময় বিকেল ৪টে ৪৪ নাগাদ তাঁরা পৃথিবীর দিকে রওনা দেন। মঙ্গলবার পৌঁছানোর কথা পৃথিবীর মাটিতে। মহাকাশ থেকে ভারতকে দেখতে কেমন লাগে? জানার আগ্রহ থাকে প্রতিটি ভারতবাসীর। মহাকাশ থেকে তা জানালেন শুভাংশু ।
আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে শুভাংশু কাটালেন ১৮ দিন। নির্বিঘ্নে পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ ক্ষেত্রে ঢুকতে রওনার পরেই রেট্রো-রকেট ইঞ্জিনের সাহায্যে গতি কমানো হচ্ছে ড্রাগনের। পুরো মহাকাশযানটিই স্বয়ংক্রিয় ভাবে চলছে। যন্ত্রপাতি ও পরীক্ষার জন্য সংগৃহীত নমুনা মিলিয়ে প্রায় ২৫০ কেজি মালপত্র রয়েছে ড্রাগনে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের পরে মহাকাশযানের গতিবেগ হবে প্রতি ঘণ্টায় ২৮ হাজার কিমি। সব কিছু ঠিকমতো চললে, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রথমে ৫,০০০ মিটার উচ্চতায় খুলে যাবে দু’টি প্যারাশুট। এর পরে আরও চারটি প্যারাশুট খুলে গতি কমাবে ক্যাপসুল। সব মিলিয়ে পৃথিবীতে ফিরতে সময় লাগার কথা মোট সাড়ে ২২ ঘণ্টা।
আজ, মঙ্গলবার ভারতীয় সময় বিকেল ৩টে নাগাদ প্রশান্ত মহাসাগরের ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে পৌঁছনোর কথা শুভাংশুদের।
ফেরার ঠিক আগে মহাকাশ থেকে বার্তা দিয়েছেন শুভাংশু। ভারতকে কেমন লাগে মহাকাশ থেকে? শুভাংশু বলেন, ‘৪১ বছর আগে ভারতীয় মহাকাশচারী গিয়েছিলেন মহাকাশে।তিনি জানিয়েছিলেন ভারতকে অপূর্ব সুন্দর লাগে মহাকাশ থেকে, আমার জানার আগ্রহ ছিল ভারতকে এখন কেমন লাগে মহাকাশ থেকে? ভারতকে এখন অনেক আত্মবিশ্বাসী লাগে। গৌরবময় মনে হয়। ভারতকে সত্যিই ‘সারে জাঁহা সে আচ্ছা’ মনে হয়!’
শুভাংশু শুক্লা গত ২৬শে জুন নাসার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে যাত্রা শুরু করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মার্কিন মহাকাশচারী পেগি হুইটসন, পোল্যান্ডের সাভোস উজানস্কি এবং হাঙ্গেরির টিবোর কাপো। এই চার মহাকাশচারী মহাকাশে অবস্থানকালে পৃথিবী প্রদক্ষিণ করেছেন এবং মোট ৬০ লক্ষ মাইলেরও বেশি পথ অতিক্রম করেছেন।
মহাকাশ মিশনের সময় তারা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন। এই অভিজ্ঞতা শুধু আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণার দিকেই নয়, ভারতের মহাকাশ অভিযানের ইতিহাসেও এক গৌরবজনক সংযোজন।





