বিপ*র্যয় এড়াতে বাড়তি সতর্কতা! জোকা-ধর্মতলা প্রকল্পের সুড়ঙ্গ খননে একাধিক নতুন ব্যবস্থা মেট্রোর

এবার শুরু হল জোকা-ধর্মতলা মেট্রো প্রকল্পের সুড়ঙ্গ খননের কাজ। এর আগে ২০১৯ সালের বউবাজারের অঘটন মাথায় রেখে এবার আরও সতর্ক থাকল মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ। মেট্রো সূত্রের খবর, জোকা-ধর্মতলা মেট্রো প্রকল্পের সুড়ঙ্গ খননে তামিলনাড়ু থেকে নিয়ে আসা হয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন ২টি টানেল বোরিং মেশিন। জোকার মেট্রোলাইন সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী ভবনগুলোকে বিপদ থেকে বাঁচাতে একটি বিশেষ যন্ত্রও লাগানো হয় এইসমস্ত বাড়ির গায়ে।
কিছুদিন আগে থেকেই জোরকদমে চলছে জোকা-ধর্মতলা মেট্রো প্রকল্পের কাজ। বৃহস্পতিবার খিদিরপুর থেকে মাটি খোঁড়ার কাজ শুরু করেছে ২টি টানেল বোরিং মেশিন। তবে, এবার আরও সতর্ক মেট্রো কর্তৃপক্ষ। তামিলনাড়ু থেকে সম্প্রতি আনা হয়েছে ২টি টানেল বোরিং মেশিন। ‘দুর্গা’ আর ‘দিব্যা’। মেট্রো রেল সূত্রে খবর, এই দুটি মেশিনের সামনের অংশে থাকছে বিশেষ ধরনের সিল। মেশিনের মুখে আছে রবারের মতো আস্তরণ। বাইরে থেকে মেশিনে ঢুকতে পারবে না কাদামাটি। মাটির প্রকৃতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে থেকে থেকেই পাল্টাবে যন্ত্রের আস্তরণ। এছা়ড়া, টিবিএম-এর পিছনে থাকছে বিশেষ ধরনের রাসায়নিক পাম্প, যা এর আগে মেট্রোর কাজে কখনও ব্যবহার হয়নি।
ফলে, কোনওভাবে, বাইরের জল মেশিনের ভিতরে ঢুকতে পারবে না। যেসব জায়গায়, টানেল বোরিং মেশিন কাজ করবে, সেখানে বিশেষ ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হবে। ন্যূনতম কোনও সমস্যা হলেই তা ধরা পড়বে এই ক্যামেরায়। এবার যে পথে সুড়ঙ্গ খোঁড়া হবে, সেই পথেই রয়েছে এসিয়াটিক সোসাইটি, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের মতো ঐতিহ্য়বাহী ভবন এবং খিদিরপুরের বিস্তীর্ণ এলাকার একাধিক পুরনো বাড়ি। সুড়ঙ্গ খোঁড়ার কাজ চলাকালীন যাতে কোনও ধরণের দুর্ঘটনা না ঘটে তার জন্য একটি বিশেষ যন্ত্র লাগানো হয়েছে এইসব বাড়ির গায়ে। ন্যূনতম সমস্যাও ধরা পড়বে এই যন্ত্রে।
গতমাসেই খিদিরপুর স্টেশন তৈরিতে ছাড়পত্র দিয়েছে রাজ্য সরকার। কলকাতা পুরসভার পুরকমিশনারের পক্ষ থেকে দেওয়া চিঠিতে মেট্রোর কাজে জমি দিতে শর্ত দেওয়া হয়, বডিগার্ড লাইন ব্য়ারাকের কোনওরকম ক্ষয়ক্ষতি করা যাবে না। নির্মাণ কাজের জন্য ধোবি লাইনকে অক্ষত রাখতে হবে। মেট্রোর নির্মাণকাজের জন্য অস্থায়ীভাবে বডিগার্ড লাইনের ১ হাজার ৭০২ স্কোয়ার মিটার জায়গা দেওয়া হবে। এবং কাজ শেষ হওয়ার পর দ্রুত সেই জায়গা ফেরাতে হবে। একইসঙ্গে জানানো হয়, মেট্রোর কাজের জন্য বডিগার্ড লাইন্সের ৮৩৭ স্কোয়ার মিটার জায়গা স্থায়ী ভাবে দেওয়া হবে। কিন্তু সেই জায়গা ব্য়বহার হবে ডায়মন্ড হারবার রোড চওড়া করা, কলকাতা পুরসভার শিফটিং ও দমকলের ব্য়বহারের জন্য। সেই স্থানে স্থায়ী কোনও নির্মাণ করতে পারবে না মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে, জোকা-মাঝেরহাট মেট্রো রুটে সোমবার থেকে যুক্ত হচ্ছে একাধিক যাত্রীবান্ধব ব্যবস্থা। পরিষেবার সংখ্যা বৃদ্ধি, দু’টি মেট্রোর মধ্যে সময়ের ব্যবধান হ্রাস ও শেষ মেট্রোর সময় বৃদ্ধি হবে বলে জানা গিয়েছে। যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য বাড়ানোর লক্ষ্যে কলকাতা মেট্রো এই পদক্ষেপ নিতে চলেছে। যার সৌজন্যে সপ্তাহের প্রথম কাজের দিন থেকেই ৬২টি মেট্রো পরিষেবা বেড়ে হচ্ছে ৭২। একলাফে বাড়তি ১০টি মেট্রো পরিষেবা উপভোগ করতে পারবেন যাত্রীরা।





