‘বিজেপিকে দিয়ে জয় মা কালী বলিয়েছি, এবার জয় বাংলা বলাবো’, শহিদ সমাবেশের মঞ্চ থেকে বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ অভিষেকের

একুশের জুলাইয়ের মঞ্চ থেকেই যে ছাব্বিশের সুর বেঁধে দেওয়া হবে, তা আগেই ভেবেছিল ওয়াকিমহল। আর তার অন্যথা হল না। এদিন শহিদ সমাবেশ থেকে বিজেপিকে খোলা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন অভিষেক ব্যানার্জি। এদিন মঞ্চে বক্তব্য রাখতে উঠে প্রথম থেকেই একের পর এক ইস্যু নিয়ে বিজেপিকে আক্রমণ করেন অভিষেক। তিনি জানান বিজেপি ও তৃণমূল সম্মুখ সমরে লড়ছে। তফাৎ হল মডিয়ার একাংশ, বিচার ব্যবস্থার একাংশ, গদি মিডিয়া নিয়ে লড়াই করছে।
অভিষেক বলেন, ‘তৃণমূল বিজেপির সঙ্গে লড়াই করলেও বিজেপির কাছে নির্বাচন কমিশন, ইডি, সিবিআই রয়েছে। তারপরেও তারা বাংলায় ছাপ ফেলতে পারেনি। তার কারণ তৃণমূলের মতো কর্মী বিজেপিতে নেই আর হবেও না। ২০২৪ সালে আমরা বলেছিলাম ২০২৬ ভোটের জন্য প্রস্তুত হন। আজ থেকে ১৭ মাস আগে ব্রিগেড ভরিয়ে দিয়েছিলাম আমরা। সেদিন তৃণমূল বলেছিল জনতার গর্জন, বাংলা বিরোধীদের বিসর্জন। বিজেপি ২০১৯ সালের ভোটের আগে এই কলকাতায় বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙেছিল বিজেপি। ভোটের লড়াইয়ে জিততে না পেরে গরীবকে ভাতে মারার চেষ্টা করেছে বিজেপি, আবাস যোজনার টাকা আটকে রেখেছিল। তার ফল দেখা গিয়েছে ২০২৪ সালের ভোটে’।
পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের নতুন ডিক্লারেশনের পর আসামের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বশর্মা বাংলা বলা নিয়ে যে মন্তব্য করেন তাঁর বিরুদ্ধে সরব হন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘আসামের মুখ্যমন্ত্রী বলছেন বাংলায় কথা বললে তাঁরা বাংলাদেশি। আমি বলছি, ১০০ বার বাংলায় কথা বলুন। গর্ব করে বলুন আপনি বাঙালি। এবার থেকে সাংসদেও বাংলায় কথা বলব। আগে ১০ বার বললে এবার থেকে ৫০০ বার বলব। আমরা বাংলার সন্তান’। তাঁর কথায়, ‘বাংলার মানুষকে ডিটেনশন ক্যাম্পে নিয়ে যেতে চায়। বিজেপিকে আমরা ২০২৬ সালের ভোটের পর ওই ক্যাম্পে নিয়ে যাব। বিজেপিকে কোনও জায়গা ছাড়া চলবে না।’
এখানেই শেষ নয়, আগামী বিধানসভা ভোটের আগে বিজেপিকে খোলা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন অভিষেক। কিছুদিন আগে নরেন্দ্র মোদি দুর্গাপুরে সভা করতে এসে নাম নিয়েছিলেন মা দুর্গা, মা কালীর। সেই প্রসঙ্গ তুলে অভিষেক বলেন, ‘আগে জয় শ্রী রাম বলত, এখন মা কালী, মা দুর্গার নাম করছে। আর ১০ মাস পর জয় বাংলা বলবে। আমি বলছি ২০২৬ সালে জয় বাংলা বলাব’। তবে আগামী ভোটের আগে কর্মীদের সতর্কও করে দিয়েছেন অভিষেক। বার্তা দিলেন, ‘আত্মতুষ্টি নয়, লড়াই এখনও বাকি আছে, উৎসাহ, উদ্দীপনা ধরে রাখতে হবে’।





