প্র*য়াত ঝাড়খণ্ডের ‘গুরুজি’ শিবু সোরেন

ঝাড়খণ্ডের রাজনীতির এক যুগের অবসান। প্রয়াত হলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম)-র প্রধান শিবু সোরেন। দীর্ঘদিন ধরে কিডনির জটিল সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। দিল্লির স্যার গঙ্গা রাম হাসপাতালে মাস খানেক আগে ভর্তি করানো হয়েছিল তাঁকে। রাখা হয়েছিল ভেন্টিলেশনে। সোমবার সকাল ৮টা ৫৬ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই বর্ষীয়ান নেতা। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮১ বছর।
পুত্র ও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন সমাজমাধ্যমে আবেগঘন বার্তায় বাবার মৃত্যুর সংবাদ জানিয়ে লিখেছেন, “শ্রদ্ধেয় দিশম গুরুজি আমাদের সকলকে ছেড়ে চলে গিয়েছেন। আজ আমি শূন্য হয়ে গেলাম।”
শিবুর প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। টুইটে তিনি লিখেছেন, “শিবু সোরেন ছিলেন তৃণমূল স্তরের নেতা, জনগণের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা ছিল অটল। উপজাতি, দরিদ্র ও নিপীড়িতদের ক্ষমতায়নের জন্য তিনি আজীবন লড়াই করে গিয়েছেন।”
রাজনীতির ময়দানে ‘গুরুজি’ নামে পরিচিত শিবু সোরেন ছিলেন ঝাড়খণ্ড আন্দোলনের অন্যতম মুখ। তাঁর নেতৃত্বেই ২০০০ সালে বিহার ভেঙে আলাদা রাজ্য হিসেবে স্বীকৃতি পায় ঝাড়খণ্ড। ২০০৫ সালে প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসেন তিনি, যদিও মেয়াদ ছিল মাত্র ১০ দিন। পরে ২০০৮-২০০৯ এবং ২০০৯-২০১০ সালে আবারও রাজ্যের হাল ধরেন। কেন্দ্রে কয়লামন্ত্রীর দায়িত্বও সামলেছেন। তবে জীবনের শেষ প্রান্তে পৌঁছে পড়েছিলেন নানা স্বাস্থ্য জটিলতায়, আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগেও জড়িয়ে পড়েছিলেন।
ঝাড়খণ্ডের মাটিতে তাঁর লড়াই, ত্যাগ ও নেতৃত্ব আজও ইতিহাসের পাতায় অমলিন হয়ে থাকবে। ‘দিশম গুরুজি’র প্রয়াণে শোকস্তব্ধ রাজ্যের রাজনৈতিক মহল ও অনুরাগীরা।





