পাকিস্তানের ক্ষমতা দখল করবে সেনাবাহিনী? কী জানালেন পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির

পাকিস্তানের ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। অনেকের মতে বাংলাদেশের মতো পরিস্থিতি হতে চলেছে পাকিস্তানের। এবার সেনাবাহিনী দখল করবে পাকিস্তানের ক্ষমতা। এর আগে প্রধানমন্ত্রী এই জল্পনা উড়িয়ে দিলেও, তার শেষ হয়নি। এবার এই নিয়ে মুখ খুললেন খোদ আসিম মুনির।
সম্প্রতি আমেরিকা সফর শেষে ফেরার পথে বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে থামেন পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির। সেখানেই মুনির স্পষ্ট জানিয়ে দেন— “রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রীর পদে কোনও পরিবর্তনের পরিকল্পনা নেই, যে গুজব ছড়ানো হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।” তাঁর কথায়, “যাঁরা সরকার এবং কর্তৃপক্ষের বিরোধিতা করছেন, তাঁরা ইচ্ছে করে রাজনৈতিক অরাজকতা তৈরির জন্য এই ধরনের গুজব ছড়াচ্ছেন।” মুনির সাক্ষাৎকারে বলেন, তিনি কেবলমাত্র একজন সৈনিক, দেশের রক্ষক হিসেবে কাজ করাই তাঁর জীবনের একমাত্র লক্ষ্য। তাঁর ভাষায়, “ঈশ্বর আমাকে পাকিস্তানের রক্ষক হিসাবে গড়েছেন। এর বাইরে আর কিছু চাই না। আমার সবচেয়ে বড় ইচ্ছা শহিদ হওয়া।”
বিদেশনীতি নিয়েও মুখ খোলেন সেনাপ্রধান। চিন ও আমেরিকা— এই দুই শক্তিধর রাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কের ভারসাম্য কীভাবে রক্ষা করা হবে, এমন প্রশ্নে মুনির বলেন, “একজন বন্ধুর জন্য কখনও অন্য বন্ধুকে বলি দেওয়া হবে না।” তাঁর উত্তর থেকে ইঙ্গিত করা যায় ইসলামাবাদ বেইজিং কিংবা ওয়াশিংটন, কারও সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করতে চাইছে না। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে তাঁর প্রশংসা নতুন করে আলোচনায় এনেছে পাকিস্তান-আমেরিকা সম্পর্ককে। মুনির জানিয়েছেন, নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য ট্রাম্পের নাম প্রস্তাব করার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর।
এদিকে, ওয়াশিংটন সফরের মাঝেই ভারতকে উদ্দেশ করে একাধিক কড়া বার্তাও দিয়েছেন মুনির। তাঁর দাবি, পাকিস্তানের পরমাণু শক্তি “অর্ধেক পৃথিবী ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখে।” আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “ভারত যদি সিন্ধুর জল আটকায়, তবে পাকিস্তান থেকে অন্তত দশটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হবে।” দিল্লি অবশ্য এই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছে। পাশাপাশি আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানে শরণার্থী প্রবেশের ঘটনায়ও ভারতকেই দায়ী করেছেন মুনির। তাঁর অভিযোগ, এর মাধ্যমে পাকিস্তানের শান্তি অস্থির করার চেষ্টা চালাচ্ছে প্রতিবেশী দেশ।





