
দেশ ভাগের যন্ত্রনা এখনো নীরব। তবেবিবেক অগ্নিহোত্রীকে বাংলা থেকে বের করে দেওয়ার দাবিও জানান তিনি। ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’- কোনও সিনেমা নয়, রাজনৈতিক প্রচারমূলক একটি ভিডিও। বাংলাকে কালিমালিপ্ত করতে তৈরি করা হয়েছে। বিতর্কিত ছবি নিয়ে পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রীকে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূলের অন্যতম রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ।
১৯৪৬ সালের ১৬ অগস্টের কলকাতা দাঙ্গাকে ভিত্তি করে ‘দ্য বেঙ্গল ফাইল্স’ সিনেমাটি বানিয়েছেন বিবেক। অভিযোগ উঠেছে, ‘ইতিহাস’ দেখানোর নামে আসলে ওই সিনেমার মাধ্যমে বাংলায় সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। স্বাভাবিক ভাবেই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। সেই আবহেই গৌতমের এই বার্তা। মূলত বাংলাভাষায় কাজ করলেও চলচ্চিত্র পরিচালক হিসাবে গৌতমের একটি আন্তর্জাতিক পরিচিতি রয়েছে। একাধিক সিনেমা কিংবা তথ্যচিত্রের জন্য তাঁর ঝুলিতে রয়েছে দেশ-বিদেশের নানা পুরস্কার।
গৌতম তাঁর ভিডিয়ো বার্তায় বলেছেন, “বাংলা ভাগের অনেক কারণ রয়েছে। কিন্তু সেই কারণগুলো নিয়ে যদি কাজ করতে হয়, তবে গবেষণা করতে হয়। এবং দাঙ্গা বা দেশভাগ কেন হয়েছিল, তা ভাবতে হয়।” মনে করা হচ্ছে, বিবেকের নাম না-করলেও এই কথা বলে অগ্রজ হিসাবে বয়স এবং অভিজ্ঞতায় নবীনকে পরামর্শই দিয়েছেন গৌতম। একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, “বাংলাকে অনেক বার অপদস্থ করার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু পারেনি। বাংলাকে হেনস্থা করা আগেও সম্ভব হয়নি, ভবিষ্যতেও হবে না। বাঙালি সেটা করতে দেবে না।”
অন্যদিকে কুনাল ঘোষের কথায়, “মণিপুরে এতটাই অশান্তি যে মুখ্যমন্ত্রীকে বাড়িতে বাঙ্কার তৈরি করতে হয়। অথচ সেসব নিয়ে সিনেমা তৈরি হয় না। গুজরাটে গোধরার মতো দাঙ্গা হল, সেটা নিয়ে সিনেমা তৈরি করার কথা মনে থাকে না।” কুণালের সাফ কথা, বিবেক যেভাবে বাংলাকে কলুষিত করার চেষ্টা করেছেন, তাতে সত্যজিৎ রায়ও তাঁকে সমর্থন করতেন না। পাশাপাশি বিবেকের সঙ্গে বিজেপির যোগাযোগ নিয়েও এদিন তোপ দাগেন তিনি। কুণাল বলেন, ”বিবেক অগ্নিহোত্রীর ‘বিবেক’ বিজেপির কাছে বন্ধক দেওয়া আছে।
রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলের তরফে বিবেকের উদ্দেশ্য নিয়েই প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, “নাটক করছেন বিবেক অগ্নিহোত্রী। নামে পরিচালক, কিন্তু তিনি যেগুলো তৈরি করেন, সেগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং মানুষে মানুষে বিভেদ বাড়ানোর জন্য।” কেন বিবেক গুজরাত দাঙ্গা নিয়ে সিনেমা তৈরি করছেন না, সেই প্রশ্ন তোলা হয় তৃণমূলের তরফে। ইতিমধ্যেই এই সিনেমা নিয়ে রাজনৈতিক তরজা বর্তমান তুঙ্গে।





