বেসরকারিকরণ সুফল না কুফল ? শুধুমাত্র শেষ পাঁচ বছরে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার লক্ষাধিক কর্মী কাজ হারিয়েছেন

বেসরকারিকরণ সুফল না কুফল ? শুধুমাত্র শেষ পাঁচ বছরে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার লক্ষাধিক কর্মী কাজ হারিয়েছেন । লোকসভায় প্রশ্নের জবাবে এই রকমই তথ্য দিয়ে ফেলেছে কেন্দ্র নিজেই।
কেন্দ্রে মোদি সরকারের তত্ত্বাবধানে বেসরকারিকরণের অভিযোগ আর নতুন কিছু নয় মানুষের কাছে। বিমান থেকে রেল, এলআইসি থেকে কয়লা সবটাতেই বিকেন্দ্রীকরণের পথে হেঁটেছে এই গৈরিক সরকার। এমনকী সেনা অধিনস্থ সৈনিক ব্যতিক্রম হয়নি স্কুলও। পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ বা পিপিপি মডেলে দেশে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু সৈনিক স্কুল তৈরি হয়ে গেছে। মোটামুটি সব ক্ষেত্রেই কমবেশি বেসরকারিকরণের পথে হেঁটেছে মোদি সরকার। যার ফলাফল হল, কর্মীছাঁটাই ও অতিরিক্ত কাজের চাপ।
দ্য টেলিগ্রাফে প্রকাশিত হওয়া তথ্য অনুযায়ী, ত মঙ্গলবার লোকসভায় একটি লিখিত জবাবে সামাজিক ন্যায়বিচার ও ক্ষমতায়ন প্রতিমন্ত্রী বিএল বর্মা জানান, কেন্দ্রের নিয়মিত কর্মচারীর সংখ্যা ২০১৯-’২০ সালে ৯.২ লক্ষ থেকে কমে ২০২৩-’২৪ সালে ৮.১২ লক্ষে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ মাঝের পাঁচ বছরে লক্ষাধিক কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। তবে এই পাঁচ বছরে অনগ্রসর শ্রেণির চাকুরে সংখ্যা ১.৯৯ লক্ষ থেকে বেড়ে ২.১৩ লক্ষ হয়েছে। কেরলের সিপিএম সাংসদ সচিতানন্থমের প্রশ্নের জবাবে এই উত্তর দিয়েছে কেন্দ্র।
বস্তুত, লাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে সরকার এখন কোষাগার ভরাতে চাইছে। কেন লাভজনক সংস্থার উপর এই কোপ? এ প্রশ্ন বহুদিনের। কেন্দ্রের অবশ্য যুক্তি, লাভজনক সংস্থার উপর কোপ পড়ছে না। রুগ্ন সংস্থাগুলিকে বিক্রি করে পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, কেন কর্মী স্বার্থের কথা ভাবা হচ্ছে না।
বেসরকারিকরণ দেশের অর্থনীতিতে নতুন প্রতিযোগিতা ও আধুনিকীকরণের সুযোগ তৈরি করলেও এর বড় মাশুল গুনতে হচ্ছে সাধারণ কর্মীদের। স্থায়ী চাকরি সংকুচিত হয়ে পড়ছে, যা ভবিষ্যতের কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষার জন্য বড়সড় উদ্বেগের বিষয়।





