
পশ্চিম এশিয়ায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়। অবশেষে রাষ্ট্রসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে জানাল—গাজা দুর্ভিক্ষের কবলে। যুদ্ধ ও অবরোধের ফলে দীর্ঘদিন ধরে খাদ্যসংকটে ভুগছিল লক্ষাধিক মানুষ। এবার পরিস্থিতি এতটাই চরমে পৌঁছেছে যে, গাজায় মৃত্যুপুরীর ছবি সামনে আসছে প্রতিদিনই।
রাষ্ট্রসংঘের প্রধান টম ফ্লেচার অভিযোগ করেন, ইজরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবেই গাজায় ত্রাণ পৌঁছনো বন্ধ করেছে। তাঁর দাবি, প্রায় পাঁচ লক্ষ মানুষ অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন, যাদের মধ্যে শিশুর সংখ্যা ৭১ হাজারেরও বেশি। তিনি আরও বলেন, ‘‘এই দুর্ভিক্ষ পুরোপুরি রোখা যেত, যদি খাবার ও সাহায্যের জোগান বন্ধ না করা হত।’’ তবে ইজরায়েল পাল্টা দাবি করেছে, গাজায় কোনও দুর্ভিক্ষ নেই। সেদেশের বিদেশ মন্ত্রকের মতে, রাষ্ট্রসংঘ হামাসের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যার ভিত্তিতেই এমন ঘোষণা করেছে।

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে ইজরায়েল–হামাস সংঘাত শুরুর পর থেকে অন্তত ৬০ হাজার প্যালেস্তিনীয় নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। মার্চ থেকে খাবার, ওষুধ, জ্বালানি প্রবেশ বন্ধ থাকায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে। সীমিত ত্রাণ পাঠানোর অনুমতি মিললেও, ইজরায়েলি সেনার গুলিতে ত্রাণ নিতে যাওয়া বহু মানুষের মৃত্যু পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
সম্প্রতি জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন, ‘‘গাজা মৃত্যু ও ধ্বংসের এমন এক স্তরে পৌঁছেছে, যার তুলনা নেই।’’ আন্তর্জাতিক মহলের আশঙ্কা, এই দুর্ভিক্ষ যদি নিয়ন্ত্রণে আনা না যায়, তবে গোটা অঞ্চল জুড়েই ভয়ঙ্কর মানবিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।





