‘বাঙালির অ.পমান মেনে নেওয়া হবে না’, ভিনরাজ্যে বাঙালাভাষীদের নি.র্যাতনের প্রতিবাদে সরব মমতা

বিজেপি শাসিত রাজ্যে প্রতিনিয়ত চলছে বাঙালি নির্যাতন। তার প্রতিবাদে বুধবার দুপুরে রাজপথে নামলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিলেন ‘সেনাপতি’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ বিশ্বাস, ফিরহাদ হাকিম, ইন্দ্রনীল সেন, উদয়ন গুহ-সহ অন্যান্যরা। ভরা বর্ষায় বৃষ্টি মাথায় কলেজ স্কোয়ার থেকে শুরু হয় মিছিল। পরে এসএন ব্যানার্জীর বদলে লেনিন সরণি ধরে এগোয় মিছিল। ডোরিনা ক্রসিঙে এসে মঞ্চে ওঠেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে কেন্দ্রকে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানান তিনি।
বাংলাভাষীদের বাংলাদেশে পুশব্যাক করার অভিযোগে ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিংয়ের সভামঞ্চ থেকে বিজেপিশাসিত রাজ্য ও গেরুয়া শিবিরকে নিশানা করলেন মমতা। এদিন তিনি বলেন, “বিজেপি কি দেশের জমিদারি পেয়ে গিয়েছে? যাকে ইচ্ছা জেলে পাঠিয়ে দিচ্ছে। বাংলা ভাষায় কথা বললে বাংলাদেশি রোহিঙ্গা বলে দিচ্ছে। বাংলাদেশ তো আলাদা দেশ। রোহিঙ্গা তো মায়ানমারের। তাতে আমাদের এখানে কি! পশ্চিমবঙ্গের নাগরিকদের কাছে আধার কার্ড, প্যান কার্ড রয়েছে। আমাদের ২২ লক্ষ বাংলার মজদুর আছে। তাঁরা বাংলায় থাকলে অনেক ভাল থাকতে পারেন। তাঁদের দিয়ে কাজ করাবে, আর বাংলায় কথা বললেই তাঁকে জেলে নিয়ে যাবে, ডিটেনশন ক্যাম্পে নিয়ে যাবে। কেন? কোন অধিকারে? পশ্চিমবঙ্গ কি ভারতের অঙ্গ নয়?”
তৃণমূল নেতৃত্ব আরও জানান, অন্য ভাষাভাষী মানুষদের তিনি সম্মান করেন। প্রত্যেক ভারতীয়কে তিনি সম্মান করেন। কিন্তু বাঙালিদের উপর অত্যাচার তিনি মানবেন না। তিনি বলেন, “আমরা সব ভাষাকেই সম্মান করি। যারা ভারতের নাগরিক, তাঁদের সকলকে আমরা সম্মান করি। কিন্তু বাঙালির অপমান মানব না। অত্যাচার সহ্য করা হবে না। বিজেপি বরাবর বিভেদের রাজনীতি করে, ভাষা বিভেদের রাজনীতি করা হচ্ছে। বাংলায় বহু ভাষাভাষির মানুষ বাস করেন। দেশের সব ভাষা ও মানুষদের বাংলা সম্মান করে। কিন্তু কোনওভাবেই বাংলা ভাষার অসম্মান মেনে নেওয়া যাবে না। ভিনরাজ্যে বাঙালির অপমান মেনে নেওয়া হবে না।”।
বুধবার প্রতিবাদ মঞ্চ থেকে অতীত মনে করিয়ে মমতা বলেন, “বাঙালিদের উপর এত রাগ কেন? কী করেছে বাঙালিরা আপনাদের? রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রাখিবন্ধন করেছিলেন। ভারত এবং বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা। জনগণমণ অধিনায়ক কি একজন বাঙালি লেখেননি? তখন তো দেশ একজোট ছিল।”





