দমদমে জলযন্ত্রণা, সন্তানকে নিয়ে ঘর ছাড়ছেন মায়েরা

উত্তর দমদমের দেবীনগরে পাঁচ মাসের ঋষিকা ঘড়ুইয়ের মৃত্যুর পরও জলযন্ত্রণা কমার নাম নেই। রবিবার সকাল থেকে দফায় দফায় বৃষ্টিতে পরিস্থিতি আরও বেসামাল। চারপাশের গোটা অঞ্চল জলমগ্ন, পাশের খাল ছাপিয়ে গিয়েছে, বেরোনোর কোনও পথ নেই। প্রশাসনের প্রতি চরম ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয়রা, দাবি তুলেছেন বছরের পর বছর ধরে চলা জলজমার স্থায়ী সমাধানের। কিন্তু পুরসভা নিজেই সমাধান নিয়ে সন্দিহান।
শনিবারের ঘটনাটি এখনও স্তম্ভিত করে রেখেছে দেবীনগরকে। ঘরে জমে থাকা জলের মধ্যে পড়ে প্রাণ যায় ছোট্ট ঋষিকার। মা পূজা বাথরুমে, বাবা পাপন ঘড়ুইপেশায় সিভিক ভলান্টিয়ারডিউটিতে, দাদা স্কুলে। ফাঁকা ঘরে ঘটে যায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। রবিবার এনআরএস হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে শিশুর মরদেহ এলাকায় ফেরানো হলেও জলমগ্নতার কারণে বাড়ি পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া যায়নি। বিরাটি কলেজের কাছে কিছু সময়ের জন্য রাখা হয় মরদেহ। শোকে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে সমগ্র এলাকা, ভেঙে পড়েন বাবা-মা।
এই মৃত্যুর পর থেকেই আতঙ্ক গ্রাস করেছে ছোট শিশু-সহ পরিবারগুলোকে। কোথায় যাবেন, কিভাবে রক্ষা করবেন সন্তানকেউত্তর মেলেনি কারও কাছে। মৃত শিশুর বড় জেঠুর এক মাসের নাতনিকে নিয়েও পরিবার সরে গিয়েছে অন্যত্র। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এলাকায় আরও পাঁচটি নবজাতক রয়েছে, যাদের বয়স ১৫ থেকে ২৮ দিনের মধ্যে। পুরসভা পরিবারের সদস্যদের সতর্ক করেছে শিশুদের সর্বক্ষণ নজরে রাখতে। কিন্তু প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে—এ ভাবে আর কতদিন?
স্থানীয়দের দাবি, যতদিন না জল নামছে ততদিন অন্তত শিবিরে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হোক।





