Breaking News

ওড়িশায় বাঙালি হেনস্থা! হাইকোর্টে তীব্র বাদানুবাদ কল্যাণের সঙ্গে ওড়িশার এজির

বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাঙালিদের উপর হেনস্থার অভিযোগে বারবার সোচ্চার হয়েছে তৃণমূল। পশ্চিমবঙ্গের প্রতিবেশী রাজ্য ওড়িশায় বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্থার অভিযোগে মামলা হয়েছিল হাইকোর্টে। বুধবার বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বেঞ্চে সেই মামলার শুনানি ছিল। রাজ্যের তরফে সওয়াল করেছিলেন তৃণমূলের সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

রাজ্যের তরফে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ওড়িশার এজি-র কাছে জানতে চান বেছে বেছে বাঙালিদেরই কেন যাচাই করা হচ্ছে? ওড়িশায় কতজন তামিল-গুজরাটিকে গ্রেফতার করা হয়েছে সেই প্রশ্নও করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর হাইকোর্ট ওড়িশার অ্যাডভোকেট জেনারেলের কাছে জানতে চায় যে ওড়িশায় ওই বাঙালিদের আটক না গ্রেফতার করা হয়েছে? বিচারপতির প্রশ্নের উত্তরে ওড়িশার এজি জানিয়েছেন ফরেনার্স অ্যাক্ট অনুযায়ী নাগরিকত্ব নিয়ে যাঁদের ক্ষেত্রে সন্দেহ তৈরি হয়েছিল কেবলমাত্র তাঁদেরই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং তাঁদের নাগরিকত্বের প্রমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিন আদালতে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সওয়াল করেন,
“ওড়িশায় প্রায় ৪০০ জন বাঙালি আটকে রয়েছেন। তাঁদের প্রতি অবিচার করা হচ্ছে। বাঙালিদের হেনস্থা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আদালতের বিশেষ নজর প্রয়োজন। আজ গোটা দেশে বাংলা ভাষা বললেই হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে। এটা আর শুধু এক রাজ্যের ইস্যু নয়। আজ এটা জাতীয় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলা ভাষা বললেই অন্যান্য রাজ্যে বাঙালিদের অসম্মান, হেনস্থা, এসব মেনে নেওয়া যায় না।”

এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করেন ওড়িশার অ্যাডভোকেট জেনারেল। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, “আমরা বাঙালি বিদ্বেষী নই। বাঙালিরা আমাদের ভাই, বোন, মা। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ আমাদের প্রতিবেশী। ওড়িশার বহু মানুষ পশ্চিমবঙ্গে থাকেন, আবার পশ্চিমবঙ্গের বহু মানুষ ওড়িশাতেও থাকেন। ওড়িশা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি নিজেও একজন বাঙালি। বাঙালি-অবাঙালি বলে বিভ্রান্ত করবেন না। দেশের ব্যাপার। পুরীতে আসুন নিমন্ত্রণ রইল।”

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button