যৌ.ন নির্যা.তনের বিচার না পেয়ে কলেজেই গায়ে আগু.ন লাগিয়ে আ.ত্মহত্যা.র চেষ্টা! ওড়িশাকাণ্ডে মৃ.ত্যু নির্যাতিতার

ওড়িশার বালেশ্বরে অধ্যাপকের বিরুদ্ধ্বে যৌন হেনস্থার বিচার চেয়ে ক্যাম্পাসে গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে এক ছাত্রী। তিন্দিন লড়াইয়ের পর সোমবার রাতে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে মৃত্যু হল তাঁর। এদিকে গোটা ঘটনায় ক্রমেই ছড়াচ্ছে উত্তাপ। এমনকি বিজেপি শাসিত ওড়িশাকে কটাক্ষ দেগেছে পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সরকার।
সূত্রের খবর, ওড়িশার বালেশ্বরের ফকির মোহন অটোনোমাস কলেজের বিএড বিভাগের এক ছাত্রী অভিযোগ করেছিলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভাগীয় প্রধান সমীর কুমার সাহু তাঁকে যৌন হেনস্থা করছিলেন। তিনি কলেজের প্রিন্সিপাল ও পুলিশকে বিষয়টি জানান, কিন্তু কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। এরপর গত শনিবার কলেজ ক্যাম্পাসে নিজের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন নির্যাতিতা। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে দগ্ধ হন আরও এক ছাত্রী।
অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় দু’জনকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয় ভুবনেশ্বর এমসে। কিন্তু সেখানে ভর্তি হওয়ার পর থেকে শারীরিক অবস্থার কোনও উন্নতি হয়নি নির্যাতিতার। হাসপাতাল সূত্রে খবর ছাত্রীর শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ, তন্ত্র পুড়ে গিয়েছে। কিডনিও পুড়ে যাওয়ার কারণে তা কাজ করছিল না। অবশেষে সোমবার রাত ১১টা ৪৬ মিনিটে মৃত্যু হয় তাঁর।
এই ঘটনায় তদন্তে নেমেছে ওড়িশা পুলিশের অপরাধদমন শাখা। দুই সদস্যের একটি দল গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি ওড়িশার উচ্চশিক্ষা দফতরও পৃথক ভাবে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযুক্ত শিক্ষককে। কিন্তু বিজেপি শাসিত ওড়িশা সরকারকে কড়া সুরে আক্রমণ শানায় তৃণমূল।
তৃণমূলের তরফে এক্স হ্যান্ডেলে লেখা হয়েছে, ‘ভিন্ন দিন, ভিন্ন শিকার। বিজেপি সরকারের তত্ত্বাবধানে সর্বত্র একই পচন ছড়িয়ে পড়েছে। গোটা ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝির নীরবতা অত্যন্ত লজ্জাজনক। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একটি শব্দও খরচ করেননি। এই ঘটনা আরও একবার প্রমাণ করে যে ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ প্রহসন ছাড়া কিছুই নয়।’





