Breaking Newsঅন্যান্যআবহাওয়াজেলাদেশমহানগররাজ্য

জোড়া ফলায় দুর্যোগ বঙ্গে, ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা জেলায় জেলায়

ঝড় বৃষ্টির আশঙ্কা এড়ানো যাচ্ছে না বঙ্গে। কখনো রোদ ঝলমলে আকাশ, কখনো আবার হঠাৎ আকাশের মুখ ভার। তারপরেই ঝাঁপিয়ে বৃষ্টি। খানিকটা এমনি ছবি বেশ কিছু দিন দেখা যাবে বঙ্গ জুড়ে। অন্যদিকে নিম্নচাপ শক্তি বাড়াচ্ছে বঙ্গোপসাগরে। উত্তর-পশ্চিম ও পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ ক্রমশ উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ইতিমধ্যেই তা গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, মূলত দক্ষিণ ওড়িশা এবং উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে। তবে বাংলায় এর সরাসরি কোনও প্রভাব না থাকলেও, সমুদ্র উত্তাল থাকায় জারি হয়েছে বিশেষ সতর্কতা। মৎস্যজীবীদের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে আগামী ২২ আগস্ট পর্যন্ত। অন্যদিকে দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস।জানা যাচ্ছে উত্তর ওড়িশা এবং গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপর এই মুহূর্তে একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে, যার উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫.৮ কিলোমিটার। এ ছাড়া, মৌসুমি অক্ষরেখা জয়সলমের, কোটা, রাঁচী, বাঁকুড়া, দিঘা হয়ে পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। এই দুইয়ের প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে জলীয় বাষ্প ঢুকছে বঙ্গে। ফলে বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি রয়েছে। আরও অন্তত দু’দিন দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি চলবে। কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিও হতে পারে।

একই সঙ্গে নিম্নচাপের কারণে উত্তাল হয়ে উঠেছে উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী অঞ্চল। এর ফলে জারি হয়েছে সতর্কতা। আবহাওয়া দফতর স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, আগামী শুক্রবার পর্যন্ত মৎস্যজীবীরা যেন কোনওভাবেই সমুদ্রে না যান। উপকূলবর্তী প্রতিটি জেলায় নজরদারি চালাচ্ছে প্রশাসন। সমুদ্রের ঢেউ স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি উঁচু হচ্ছে, বাতাসের গতিবেগও বেড়ে চলেছে। ফলে উপকূলবর্তী গ্রামাঞ্চলে আতঙ্ক বাড়ছে। মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে, পাশাপাশি যারা সমুদ্রপথে পরিবহন কাজের সঙ্গে যুক্ত, তাদেরও বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। প্রশাসন উপকূলবর্তী এলাকায় টহলদারি জোরদার করেছে এবং প্রতিটি জেলায় বিপর্যয় মোকাবিলা দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

নিম্নচাপের প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের আকাশেও দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম এবং বাঁকুড়া জেলায় বজ্রবিদ্যুৎসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। বৃষ্টির সঙ্গে ঝোড়ো দমকা হাওয়া বইবে, যার গতিবেগ ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। এর ফলে গাছ উপড়ে যাওয়া বা কাঁচা ঘরবাড়ির ক্ষতির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। শহর কলকাতাতেও অল্প সময়ের জন্য হলেও প্রবল বর্ষণ হতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। আবহাওয়া দফতর ইতিমধ্যেই হলুদ সতর্কতা জারি করেছে এই আটটি জেলায়।

শহর কলকাতার আবহাওয়া এখন অস্বস্তিকর। সকাল থেকে মাঝেমধ্যে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হলেও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি বজায় রয়েছে। ফলে শহরবাসীর অস্বস্তি আরও বাড়ছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কলকাতার তাপমাত্রা ২৭ থেকে ৩১ ডিগ্রির মধ্যে ঘোরাফেরা করবে। এই অস্বস্তি চলবে আগামী কয়েকদিন ধরে। বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত শহরবাসীর অস্বস্তি কিছুটা হলেও কমাতে পারে, কিন্তু আর্দ্রতার প্রকোপ থেকে পুরোপুরি রেহাই পাওয়া সম্ভব নয়।

উত্তরবঙ্গেও বাড়ছে বৃষ্টির সম্ভাবনা। আজ, থেকেই বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি হতে পারে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে। আজ থেকে বৃষ্টির তীব্রতা আরও বাড়বে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। বিশেষ করে জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কালিম্পং জেলায় প্রবল বর্ষণ হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। এর ফলে পাহাড়ি এলাকায় ধস নামার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে শনিবার ও রবিবারের দিকে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা হলেও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। উত্তরবঙ্গের একাধিক নদীর জলস্তর বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে, ফলে নদীর পাশের গ্রামগুলিতে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button