কংগ্রেসের উলটো সুরে প্রধানমন্ত্রী-মুখ্যমন্ত্রীদের সরানোর বিলে সমর্থন থারুরের

দলের উলটো সুরে কথা বলাটা যেন রুটিন বানিয়ে ফেলেছেন শশী থারুর। যে কোনও ইস্যুতেই দলের সরকারি অবস্থানের উলটো কথা বলা তাঁর অভ্যাস। কেন্দ্রের প্রস্তাবিত সংবিধান (১১৩ তম সংশোধনী) বিল নিয়েও একই অবস্থান তাঁর। থারুর বললেন, “কেউ যদি ৩৯ দিন জেলে থাকে, তাহলে তাঁর মন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রী পদ যাওয়াটাই স্বাভাবিক। সাধারণ বুদ্ধি তো তাই বলে।”
কেন্দ্রীয় সরকারের প্রস্তাবিত সংবিধান (১১৩ তম সংশোধনী) বিল পেশ হতেই উত্তাল হয়েছে লোকসভা। এই বিল গুরুতর অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী এবং মন্ত্রীদের পদ থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপসারণের কথা বলেছে।এবার এই ইস্যুতেও কেন্দ্রের পাশে দাঁড়িয়ে যথারীতি দলের অবস্থানের উল্টো কথা বললেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর।
বুধবারই লোকসভায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল প্রশাসন (সংশোধনী) বিল ২০২৫, সংবিধান (১৩০ তম সংশোধনী) বিল ২০২৫ এবং জম্মু ও কাশ্মীর পুনর্বিন্যাস (সংশোধনী) বিল ২০২৫। ওই বিলগুলি মূলত সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে আনা। তাতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী এবং যে কোনও রাজ্যের মন্ত্রী যদি কোনও গুরুতর মামলায় গ্রেফতার হয়ে টানা ৩০ দিন জেলে থাকেন, তাহলে ৩১তম দিনে তাঁকে পদত্যাগ করতে হবে বা নিজে থেকেই তিনি পদ খোয়াবেন। খুন, ধর্ষণ, ডাকাতি অথবা গুরুতর আর্থিক দুর্নীতির মতো অপরাধের ক্ষেত্রেই এই নিয়ম কার্যকর করতে চাওয়ার প্রস্তাব সরকারের। বর্তমানে এই ধরনের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে তবেই পদ খারিজ হওয়ার সংস্থান রয়েছে সংবিধানে।
এদিন শাহের বিল পেশের সঙ্গে সঙ্গে তুমুল হট্টগোল শুরু করে কংগ্রেস-সহ গোটা বিরোধী শিবির। কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেন, ‘আমি একে সম্পূর্ণরূপে স্বৈরাচারী এবং অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপ বলে মনে করি। এটিকে দুর্নীতি বিরোধী পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দেওয়া আসলে জনগণের চোখে ধুলো দেওয়া। কালকেই যদি কোন বিরোধী মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করে তাকে ৩০ দিনের জন্য গ্রেফতার করা হয়, তাহলে কি তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পদ হারাবেন? এটা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর বিরুদ্ধে।’
তবে শশী স্বভাবসিদ্ধভাবেই কংগ্রেসের উলটো কথা বলছেন। তাঁর বক্তব্য, “কেউ যদি ৩০ দিন জেলে থাকেন, তাহলে পদ খোয়াতে হবে সেটাই তো স্বাভাবিক। তিরুঅনন্তপুরমের সাংসদের বক্তব্য, সরকার তো আর বিলটি আলোচনা ছাড়া পাশ করাচ্ছে না। বিলটিকে সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানো হবে। আলোচনার পর সেটি নিয়ে সিদ্ধান্ত। তবে শশী বুঝিয়ে দিয়েছেন, তিনি এই বিলের বিরোধী নন। বস্তুত কংগ্রেসের সঙ্গে বেশ কিছুদিন ধরেই দূরত্ব বাড়াচ্ছেন শশী। আরও একবার তিনি নিজের অবস্থান বুঝিয়ে দিলেন।





