রাশিয়ার সাইবেরিয়ায় ভয়া*বহ বিমান দু.র্ঘট.না: গহীন জঙ্গলে ভ.স্মীভূ.ত যাত্রীবাহী বিমান, নিহ.ত ৪৯

রাশিয়ার পূর্ব সাইবেরিয়ার গভীর জঙ্গলে ঘটল এক মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনা। যাত্রী ও ক্রুসহ মোট ৪৯ জন আরোহী নিয়ে বিধ্বস্ত হল ‘আঙ্গারা’ এয়ারলাইন্স পরিচালিত একটি আনটোনভ-২৪ মডেলের যাত্রীবাহী বিমান। দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা সবাই প্রাণ হারিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন আমুর অঞ্চলের গভর্নর ভ্যাসিলি অরলভ।
সম্প্রচারমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলির বরাতে এই দুঃসংবাদের বিস্তারিত উঠে এসেছে। দুর্ঘটনার পরপরই পোড়া বিমানের ধ্বংসাবশেষের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে, যা মুহূর্তে দগ্ধ হৃদয়ের প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়। রুশ সম্প্রচারমাধ্যম RT একটি আট সেকেন্ডের ভিডিও প্রকাশ করে, যেখানে দেখা যায়—জঙ্গলের মাঝখানে ধোঁয়ার কুণ্ডলীতে মোড়া বিমানের ছিন্নভিন্ন ধ্বংসাবশেষ। সেখান থেকেই প্রথমবারের মতো নিশ্চিত হওয়া যায় দুর্ঘটনার ভয়াবহতা।
সাইবেরিয়াভিত্তিক ‘আঙ্গারা’ এয়ারলাইন্সের বিমানটি ব্লাগোভেশচেনস্ক শহর থেকে উড়ে যাচ্ছিল চীনের সীমান্তঘেঁষা টাইন্দা শহরের উদ্দেশ্যে। মাঝপথেই রাডার থেকে হারিয়ে যায় বিমানটি। তৎক্ষণাৎ খোঁজ শুরু হয় নিখোঁজ বিমানটির। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বিমানে পাঁচ শিশু সহ ৪৩ জন যাত্রী এবং ৬ জন ক্রু ছিলেন।
গভর্নর অরলভ গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, বিমানের কাউকে জীবিত পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনাস্থলটি এতটাই দুর্গম ছিল যে সেখানে পৌঁছাতে হেলিকপ্টার ও বিশেষ উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়। জঙ্গলের মাঝে বিমানটির ফিউসেলাজ থেকে তখনও জ্বলছিল আগুন, আর তারই মাঝে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল যাত্রীদের জিনিসপত্রের ছিন্নভিন্ন অংশ।
রাশিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ও জরুরি বিভাগের তৎপরতায় দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও জানা যায়নি।
এই দুর্ঘটনা শুধু রাশিয়ার জন্য নয়, গোটা বিশ্বের কাছেই এক গভীর ক্ষতির প্রতীক। আধুনিক প্রযুক্তির যুগেও যান্ত্রিক ত্রুটি ও দুর্যোগ এড়ানো যে এখনও সম্ভব নয়, তা যেন ফের প্রমাণ করল এই বিমান বিপর্যয়।
এই মুহূর্তে শোকস্তব্ধ রাশিয়া। দুর্ঘটনার কারণ উদ্ঘাটন না হওয়া পর্যন্ত কেবল একটি প্রশ্নই ঘুরছে সবার মনে—এমন মৃত্যু কেন, কীভাবে?





