তুঙ্গে ২১শে জুলাইয়ের প্রস্তুতি! শহীদ দিবস ঘিরে মানুষের ঢল রাজপথে

একটি দিন, একটি মঞ্চ, একটি বক্তৃতা — আর তার টানে গোটা বাংলা ছুটে এসেছে শহরের বুকে। ২৬ এর ভোটের আগে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে মুখ্যমন্ত্রীর বার্ষিক ভাষণ শোনার আশায় রাজ্যবাসী। উত্তরবঙ্গের নিউ জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, মালদা, ও উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর থেকে একের পর এক স্পেশাল ট্রেনে করে কর্মীরা এসেছেন কলকাতায়।
শুধু ট্রেন নয়, বাসে করেও চলছে জনস্রোত। দক্ষিণবঙ্গের মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, তমলুক, কাঁথি, ঘাটাল — প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে লোকজন আসছেন ট্রাকে, ম্যাটাডোরে, এমনকি ছোট গাড়ি ভাড়া করে। প্রতিটি গাড়ির গায়ে লেখা — “২১ জুলাই শহীদ দিবস — বাংলার গর্ব”।
নদিয়া, বর্ধমান, বীরভূম, হুগলি, হাওড়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা — এই এলাকাগুলো থেকে এমনিতেই হাজার হাজার কর্মী যোগ দেন এই বার্ষিক জমায়েতে। এবারও ব্যতিক্রম নেই। বাসে, ট্রেনে, এমনকি হেঁটে পর্যন্ত অনেকে পৌঁছে যাচ্ছেন ব্রিগেড চত্বরে। বিশেষ করে বারুইপুর, কাকদ্বীপ, সোনারপুর, বাসন্তী, বসিরহাট, ডায়মন্ড হারবার — এই অঞ্চলগুলি থেকে আগত শোভাযাত্রা গুলো যেন আর শুধু রাজনৈতিক সমাবেশ নয়, যেন কোনও উৎসবের মহাযাত্রা।
অপরদিকে এই প্রথমবারের মতো ত্রিপুরা, আসাম, বিহার ও ঝাড়খণ্ড থেকেও আসছেন তৃণমূল কর্মী ও সমর্থকেরা। উত্তর-পূর্ব ভারতে দলের সম্প্রসারণের কৌশলের অংশ হিসেবেই এই আগমন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। আগরতলা থেকে ট্রেনে আসা এক তরুণ কর্মীর কথায়, “ত্রিপুরাতেও দিদির নামে বিশ্বাস আছে। ওখানে দল তৈরি হচ্ছে, তাই এই মঞ্চে থাকতে চেয়েছি।”
হাওড়া, শিয়ালদহ, কলকাতা স্টেশন ইতিমধ্যেই কার্যত জনসমুদ্র। শিয়ালদহের ৯ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা কোচবিহারের এক বৃদ্ধা বললেন, “১৯৯৩ তে আমরা গুলি খেয়েছি। আজও সেই দিনটা ভুলি না। যতদিন বাঁচব, ততদিন ২১ জুলাই ব্রিগেড যাব।”
নিরাপত্তার দিক থেকে শহর রীতিমতো দুর্গে পরিণত হয়েছে। ৬ হাজারেরও বেশি পুলিশ, শতাধিক নজরদারি ক্যামেরা, মুখ চিনে রাখার প্রযুক্তি, কন্ট্রোল রুম, বম্ব স্কোয়াড, স্নিফার ডগ — সব কিছু মিলে চূড়ান্ত প্রস্তুতি। রেলস্টেশনগুলিতে তৈরি রাখা হয়েছে মেডিকেল টিম ও বিশ্রামের ব্যবস্থা। এছাড়া ব্রিগেডের মঞ্চকে এই বছর আরও বড়, আরও প্রযুক্তিনির্ভর করে বানানো হয়েছে। রয়েছে বিশাল LED স্ক্রিন, ডিজিটাল ব্যাকড্রপ, শব্দ নিয়ন্ত্রণে উন্নত ব্যবস্থা যা কোনও কনসার্টের মঞ্চকেও হার মানায়।
বছরের পর বছর ধরে ২১ জুলাই ছিল শহীদদের স্মরণে এক আবেগঘন দিন। কিন্তু এখন তা শুধুই ইতিহাস নয়, তা এক রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের বিশাল মঞ্চ। আগামী লোকসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি, কেন্দ্রের বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, এবং বিজেপির বিরোধিতায় জাতীয় স্তরে তৃণমূলের অবস্থান — সবকিছুর ঘোষণা হতে পারে এখান থেকেই।





