উত্তরাখণ্ডে হড়পা বান, চামোলিতে ভেসে গেল বাড়ি-দোকান, মৃ*ত্যু এক তরুণীর!

মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে ফের ভয়াবহ বিপর্যয় নামল উত্তরাখণ্ডে। শুক্রবার মধ্যরাতে চামোলি জেলার থরালি এলাকায় আচমকাই নেমে আসে হড়পা বান। প্রবল কাদাস্রোতে মুহূর্তের মধ্যেই ভেসে যায় দোকানঘর, বাড়িঘর। এমনকি মহকুমাশাসকের সরকারি বাসভবনও টিকে থাকতে পারেনি জলোচ্ছ্বাসের সামনে। জল এবং কাদার প্রবল চাপে একের পর এক বাড়ি ধসে পড়ে। ধ্বংসস্তূপের ভিতর অনেকে আটকে পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সাগওয়ারা গ্রামে ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছে এক তরুণীর।
থরালি এলাকায় রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা বহু গাড়ি ভেসে গিয়েছে। স্থানীয় চেপদাঁও বাজারে এখনও এক জনের খোঁজ পাওয়া যায়নি। ইতিমধ্যেই উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিংহ ধামী। তিনি জানিয়েছেন, প্রশাসন, পুলিশ এবং এসডিআরএফ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং পরিস্থিতির উপর তিনি নিয়মিত নজর রাখছেন।
প্রসঙ্গত, এর আগে চলতি মাসের ৫ অগস্ট উত্তরকাশীর হর্ষিল উপত্যকায় ভয়ঙ্কর হড়পা বান নেমেছিল। ঘণ্টায় ৪৩ কিলোমিটার বেগে নেমে আসা সেই জলোচ্ছ্বাস মাত্র ৩০ সেকেন্ডে ধরালী গ্রামকে প্রায় নিশ্চিহ্ন করে দেয়। শুধু ধরালীই নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল পাশের গ্রাম হর্ষিলও। ওই ঘটনায় চার জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং অন্তত ৪২ জন নিখোঁজ হন। পরবর্তীতে উদ্ধারকাজে বহু মানুষকে নিরাপদে আনা হয়। পরে জানা গিয়েছে, ওই দিন পরপর ছ’টি হড়পা বান নেমেছিল কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে।
শনিবারও উত্তরাখণ্ডের দেহরাদূন, রুদ্রপ্রয়াগ, চামোলি এবং উত্তরকাশী জেলায় বজ্রবিদ্যুত্-সহ ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর। ভূমিধসের আশঙ্কায় পিথোরাগড় জেলায় সমস্ত স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।





